বাসার কাছেই চিরশায়িত অপ্রতিম
বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা কষ্টের, সেটা বুঝতে পারছি : অপ্রতিমের বাবা
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

যেখানে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সেই কুমিল্লার গন্ধমতি এলাকার বাসার কাছেই চিরশায়িত হয়েছে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি উপশহরের গন্ধমতি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম ও পরে বেলা ১১টায় তার বাসা সংলগ্ন এলাকায় গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। এসব জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাথীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে এবং স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত শুক্রবার বিকালে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় সে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে গত শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে লাশের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি। গত শনিবার রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানায় পুলিশ। তাকে হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে রোববার দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে পুলিশের।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, নিহত অপ্রতিমের দাদার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। নানার বাড়ি চাঁদপুরে। কুমিল্লা কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় যে বাড়িতে তারা থাকতেন সেটি তাদের নিজেদের করা বাড়ি। অপ্রতিমের জন্ম হয়েছিল এখানেই। সে বড়ও হয়েছে এই গন্ধমতি এলাকায়। তাই তার পরিবারের ইচ্ছায় বাড়ির পাশে কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা কষ্টের, সেটা বুঝতে পারছি —অপ্রতিমের বাবা : আর কোনো বাবাকে যেন তার মতো সন্তান হারাতে না হয় এমন আকুতি জানিয়েছেন কুমিল্লার স্কুল ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। তিনি বলেছেন, বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা কষ্টের, সেটা আজ বুঝতে পারছি। আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়। গতকাল রোববার সকালে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে একমাত্র ছেলের জানাজার আগে তিনি এ আকুতি জানান। সন্তানহারা এই বাবা বলেন, আমার ছেলের বয়স যখন দুই বছর, তখন সে এই এলাকায় এসেছে। আমার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অপ্রতিম আপনাদের কাছেই বড় হয়েছে। আপনাদের আদর-স্নেহ পেয়েছে, আপনাদের বাসায় খেয়েছে। তাই আপনাদের কাছেই অপ্রতিমকে সমাহিত করছি। এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রথম জানাজায় তিনি বলেন, আমার ছেলে আপনাদের কুমিল্লার আবহাওয়ায়, কুমিল্লার আকাশের নিচে, আপনাদের ভালোবাসায়, আপনাদের স্নেহ... ও বড় হয়েছিল।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ওর বয়স ১৩ বছর। আমি ওর বাবা হিসেবে আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। ও যদি কোনো আচরণে আপনারা ত্রুটি পান, আপনারা ক্ষমা করে দিবেন। এবং ওর জন্য দোয়া করবেন, ও যেন বেহেশতবাসী হয়। তিনি বলেন, আমার একটাই সন্তান। ওর মাতৃভূমি বলেন, এটাই। ও ছোট থেকে এখানেই বড়, আপনাদের ভালোবাসায় বড় (হয়েছে)। পরে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি উপশহরের গন্ধমতি কবরস্থানে অপ্রতিমকে দাফন করা হয়। ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে এবং স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত শুক্রবার বিকালে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় সে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে গত শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়।
