চার বছরের মধ্যে ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খনন এবং স্থগিত থাকা আটটি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, সরকারের ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে বিজিএফসিএল পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, আরও নয়টি নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যমান ১২টি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রত্যাশা করছে।

বিজিএফসিএলের এই কর্মকর্তা বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজিএফসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ছয়টি (তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা) গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট অভ্যন্তরীণ গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৮ শতাংশ সরবরাহ করে। ভবিষ্যতে গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নের সম্ভাবনাময় কাঠামো চিহ্নিত করতে বিজিএফসিএল সাইসমিক জরিপ পরিচালনা করছে। বর্তমানে মোট ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক জরিপ পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র ও এর সংলগ্ন এলাকায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় ৫৭৫ বর্গকিলোমিটার রয়েছে। এছাড়া তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পশ্চিম এবং নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পূর্ব এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে ২ডি ও ৩ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে।

'তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৯ জুন শেষ হয়। গতকাল এই কূপটি জাতীয় গ্রিডের জন্য উদ্বোধন করা হয়। কূপটি থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। বিজিএফসিএলের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমন্বিত খনন চুক্তির আওতায় চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিসিডিসি) কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করে। কূপটি ৩ হাজার ৬০১ মিটার মাপা গভীরতা (এমডি) এবং ৩ হাজার ৪৭১ মিটার প্রকৃত উল্লম্ব গভীরতা (টিভিডি) পর্যন্ত খনন করা হয়। এছাড়া আরও গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে বিজিএফসিএল তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯ গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ পরিচালনা করছে।