দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা
এমপি গাজী নজরুল চার দিন ও তার স্ত্রীর এক দিন রিমান্ড
* স্পিকারকে জানিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হলো সংসদ সদস্য গাজী নজরুলকে * এমপি পদের বিষয়ে সংসদের চিঠির অপেক্ষায় ইসি
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ৪ দিন ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন রিমান্ড নামঞ্জুর ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে গাজী নজরুলকে বুলেট প্রুপ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে এজলাসে আনা হয়। এ সময় তিনি তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলার এজাহার পড়ে দেখেন। পরে ওকালতনামায় সই করেন।
৫ কারণে রিমান্ড চাওয়া হয়— ১. ভিকটিম মরিয়ম ফাঁস লাগিয়ে মৃত্যুবরণ করার সময় একই বাসায় এজাহারনামীয় গ্রেপ্তার আসামিরা ছিল। তাই ভিকটিমের আত্মহত্যায় তাদের প্রভাব আছে কি না তা উদ্ঘাটন। ২. ভিকটিমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার বিষয়ে আসামিদের ভূমিকা উদ্ঘাটন। ৩. ভিকটিম মরিয়মের আত্মহত্যায় এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা। ৪. ভিকটিম মরিয়মের আত্মহত্যায় অজ্ঞাতনামা আসামি জড়িত রয়েছে কি না তা শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা। ৫. মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা।
এর আগে গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং শ?্যালক ওবায়দুর রহমান— এই ৩ জনকে আসামি করা হয়।
স্পিকারকে জানিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হলো সংসদ সদস্য গাজী নজরুলকে : ন্যাম ভবন থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। স্পিকারকে অবহিত করে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের ডিসি ইবনে মিজান বলেন, স্পিকারকে অবহিত করে নজরুল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ : দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, তাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন নিহতের বাবা বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। গত রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
শেরেবাংলা নগর থানার একাধিক কর্মকর্তা জানান, এ মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তারা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের 'প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়' সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীর বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।
এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন। এর মধ্যে রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে বাদীকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ। তিনি এজাহারে লিখেছেন, লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা 'সুইসাইড নোট' দেখতে পান।
নজরুলের এমপি পদের বিষয়ে সংসদের চিঠির অপেক্ষায় ইসি : সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সদস্য পদ নিয়ে দুই মাসেও স্পিকারের কোনো চিঠি পায়নি ইসি সচিবালয়। নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে এখনো সংসদ থেকে কোনো চিঠি আসেনি। চিঠি আসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
