হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গুতে ঝরল আরও ১৩ প্রাণ
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আটজন। একই সময়ে হামের উপসর্গে মৃত্যু হয় পাঁচজনের। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৩৪৫ জন, ঢাকা বিভাগে (মহানগরের বাইরে) ৩৭১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬৪ জন, খুলনা বিভাগে ২৭৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩০ জন, সিলেট বিভাগে ১৭ জন, রংপুর বিভাগে ৭৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৮ জন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫ হাজার ৬৬ জন। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৬৯ হাজার ১৪৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৩০৩ জন, যা এ বছরের এক মাসে সর্বোচ্চ।
এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। আর মৃতদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২০৯ জন। এর আগে ২০২৫ সালে দেশে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু : দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে তিনজন এবং সিলেট বিভাগে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। সরকারের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে সংক্রামক এ ব্যাধির উপসর্গ নিয়ে দেশে ৯৮০ জনের মৃত্যু হলো। এর বাইরে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। সেই হিসাবে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রায় ৬ মাসে ১ হাজার ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৪২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১৭২ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৮, চট্টগ্রামে ৭৮, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪২ ও রংপুর বিভাগে ১৫ জন মারা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৮৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১০৫ জন। ঢাকা বিভাগে ভর্তি ৩৭১ জন, চট্টগ্রামে ২৪৩ , সিলেটে ১৫৫, বরিশালে ১২৪ , খুলনায় ১০৯, ময়মনসিংহে ৭২, রাজশাহীতে ২৮ ও রংপুরে ৯ জন ভর্তি হয়েছে।
এ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৪ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।
আর দেশে হাম উপসর্গের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩২। হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৯৫১। এর মধ্যে গত ৩৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয় ১০০ জন। হাসপাতালে আসা সব রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা রোগীদের সবার হাম পরীক্ষা হয় না। ফলে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সঠিক সংখ্যা পাওয়া যায় না।
