পর্যটনে বড় স্বপ্ন, বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ
* ডিসেম্বরে মাস্টারপ্ল্যান * এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে জোর * আন্তর্জাতিক পর্যটক টানতে অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী, দ্বীপ, প্রত্নসম্পদ আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি— পর্যটনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব উপাদানই আছে বাংলাদেশে। বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়, সিলেটের চা-বাগান, নদীমাতৃক ভূপ্রকৃতি, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও মহাস্থানগড়ের মতো ঐতিহাসিক নিদর্শন দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে করেছে অনন্য। কিন্তু এ বিপুল সম্পদের তুলনায় জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান এখনো সীমিত। এবার সেই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
পর্যটন খাতের অবদান জিডিপির বর্তমান ২ থেকে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য পর্যটন খাতের মাস্টারপ্ল্যান হালনাগাদ করা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এর কাজ শেষ করার প্রত্যাশা করছে সরকার। মাস্টারপ্ল্যানের আলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নেওয়া হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পর্যটন খাতের প্রকৃত চিত্র জানতে তথ্য-উপাত্তের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে কাজ চলছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) আওতায় ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যটন খাতে কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, কত পর্যটক আসছেন, জিডিপিতে এ খাতের অবদান কত এবং ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড পর্যটনের প্রকৃত চিত্র কী— এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে। সচিবের মতে, এসব তথ্যের ভিত্তিতে পর্যটকদের আগ্রহের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর উন্নয়ন করা হবে। সরকারের নীতিনির্ধারণী নির্দেশনা ও পাঁচ বছরের কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনার আলোকে পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান সংশোধন ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
সম্ভাবনার সঙ্গে ব্যবধান : বিশেষজ্ঞ ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন নেই; প্রশ্ন হলো সেই সম্ভাবনাকে কতটা পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, স্থানীয় ব্যবসা ও অবকাঠামো উন্নয়নের বড় চালিকাশক্তি হলেও বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগেনি। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, হাওর অঞ্চল, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোকে ঘিরে সমুদ্র, প্রকৃতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও অ্যাডভেঞ্চার— বিভিন্ন ধরনের পর্যটন গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে দেশের লোকজ সংস্কৃতি, খাবার, তাঁত, কারুশিল্প, জিআই পণ্য ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য। কিন্তু পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অনেক জায়গায় এখনও ভালো যোগাযোগব্যবস্থা, মানসম্মত হোটেল-মোটেল, পর্যাপ্ত বিনোদন সুবিধা, পর্যটন তথ্যকেন্দ্র ও নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত অবস্থানে যেতে পারছে না।
খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ডিং ও বিপণনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। সম্ভাবনাময় গন্তব্যগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে আলাদা পর্যটনপণ্য হিসেবে তুলে ধরতে দীর্ঘমেয়াদি প্রচারণা প্রয়োজন হলেও সে ক্ষেত্রে এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে।
বিনিয়োগ আছে, আস্থার ঘাটতি : পর্যটন খাতের বড় অংশের বিনিয়োগকারী বেসরকারি উদ্যোক্তারা। কক্সবাজার, সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় হোটেল, রিসোর্ট ও অন্যান্য পর্যটনসেবায় বিনিয়োগ করেছেন তারা। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধার ঘাটতিকে বিনিয়োগের বড় বাধা হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা। প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব ও দেশের জ্যেষ্ঠ পর্যটন বিশেষজ্ঞ তৌফিক রহমান বলেন, বাংলাদেশে পর্যটনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মূল লক্ষ্য পূরণ করতে হলে প্রথমেই বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশে আসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ জন্য বিভিন্ন দেশের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে বাংলাদেশকে 'রেড মার্ক' বা উচ্চ সতর্কতাপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে— তা পরিবর্তন করা জরুরি।
তিনি বলেন, ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতে কোনো দেশকে উচ্চ সতর্কতার তালিকায় রাখা বা তা পরিবর্তন করা সংশ্লিষ্ট বিদেশি সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়ন এবং কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের পর্যটন চিত্র ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশকে নিরাপদ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ট্যুরিস্ট পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র এবং বিদেশি পর্যটকদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখাও জরুরি। বিদেশি পর্যটকদের জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পাশাপাশি বিশেষায়িত হেল্পলাইন আরও কার্যকর করা যেতে পারে।
তৌফিক রহমান বলেন, যেসব দেশ বাংলাদেশকে উচ্চ সতর্কতার তালিকায় রেখেছে, সেসব দেশের দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত ও কার্যকর সংলাপ করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত ও ইতিবাচক তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি কূটনীতিকদের দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলো সরেজমিন পরিদর্শনের সুযোগ দিয়ে সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের প্রত্যক্ষ ধারণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'নিরাপদ বাংলাদেশ'— এ বার্তা নিয়ে ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং করতে হবে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ট্রাভেল ব্লগার, ইনফ্লুয়েন্সার ও সাংবাদিকদের সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানাতে হবে। তারা বাংলাদেশ ঘুরে বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলাগুলোতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, আতিথেয়তা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পর্যটন ও হসপিটালিটি সেক্টর নিয়ে কাজ করা ওয়েসিস কনসোর্টিয়ামের প্রধান নির্বাহী জুয়েল খান বলেন, বিশ্বের অনেক ছোট ও তুলনামূলকভাবে কম সম্পদশালী দেশও শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনসেবা নিশ্চিত করে সফলভাবে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের দেশেও বিশ্বমানের হোটেল, রিসোর্ট এবং পর্যটন অবকাঠামো রয়েছে। কিন্তু যথাযথ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং এবং ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে না পারায় বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করতে পারছি না।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হলে শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল, আন্তর্জাতিক মানের সার্ভিস কালচার এবং পর্যটককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরতে কার্যকর ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
দরকার আন্তর্জাতিক বিপণন : বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী বিপণন কার্যক্রম চালুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে 'ইকো-ট্যুরিজম' 'কালচারাল ট্যুরিজম' ও 'অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম'কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের আলাদা ব্র্যান্ড তৈরি করার কথা বলছেন তারা।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যটনের সুফল শুধু বড় ব্যবসা বা শহরকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। স্থানীয় মানুষ পর্যটনসেবা, গাইড, খাবার, কারুশিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হলে তাদের আয় বাড়বে। একই সঙ্গে পর্যটন এলাকার সংস্কৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণেও স্থানীয়দের অংশগ্রহণ বাড়বে।
ট্যুরিজম সাসটেইন করতে শুধু সরকার বা শুধু প্রাইভেট স্টেকহোল্ডার বা অন্য কোনো স্টেকহোল্ডারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। জনগণ যদি সচেতন না হয়, তাহলে কোনো উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে না।
যেসব সংস্কারের দাবি : পর্যটন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে পর্যটন খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর করা, পর্যটন পুলিশের কাভারেজ বাড়িয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা সুবিধা চালু করা।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসেবায় করছাড় ও প্রণোদনা দেওয়ার দাবি রয়েছে। উদ্যোক্তাদের মতে, পর্যটন অবকাঠামোতে সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
এআই ও ডিজিটালে নতুন সম্ভাবনা : পর্যটনশিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য— 'ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন'। এআইয়ের মাধ্যমে পর্যটন গন্তব্যের ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরি, পর্যটকদের তথ্য সরবরাহ, গন্তব্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং ডিজিটাল সেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ব পর্যটনে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ খাত এখনও অনেকটাই নতুন।
২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
পুরস্কারও প্রথমবার : পর্যটন খাতে উৎকর্ষ, উদ্ভাবন ও টেকসই উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এবারই প্রথম 'বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬' দেওয়া হবে। ১৩টি ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও পর্যটন উদ্যোগকে এ পুরস্কার দেওয়া হবে। সরকারের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি নয়, এর বাস্তবায়ন। দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা, যোগাযোগ, ভিসা জটিলতা, বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণার ঘাটতি দূর করা না গেলে কাগজে-কলমে বড় লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
বাংলাদেশের হাতে পর্যটনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের বড় অংশই রয়েছে। এখন সেই সম্পদকে পরিকল্পিত পর্যটনপণ্যে রূপ দিয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই বড় কাজ। ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যান হালনাগাদ করে সরকার কোন পথে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে অবারিত সম্ভাবনার এ শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে কতটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ : পর্যটন খাতের জন্য সরকারের নতুন লক্ষ্য উচ্চাভিলাষী। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মতে, বড় লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। মাস্টারপ্ল্যান তৈরি, নীতিমালা হালনাগাদ কিংবা পর্যটন দিবসের আয়োজনের পাশাপাশি গন্তব্যভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, নিরাপত্তা, সহজ ভিসা, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক বিপণন— সব ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বাংলাদেশের হাতে পর্যটনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদের বড় ভাণ্ডার রয়েছে।
এখন সেই সম্পদকে পরিকল্পিত পর্যটনপণ্যে রূপান্তর করে দেশি-বিদেশি পর্যটকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ। ডিসেম্বরের মধ্যে হালনাগাদ মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত হওয়ার পর সেটি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে দেশের পর্যটন শিল্পের অগ্রগতি।
