সন্ধ্যা নামতেই বদলে যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্ধ্যা নামতেই বদলে যায় রাজধানীর শাহবাগের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চেহারা। দিনের কোলাহল ধীরে ধীরে কমে আসে আর উদ্যানজুড়ে নামে দিন শেষের অন্ধকার। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে হাঁটার পথগুলোও তখন হয়ে ওঠে প্রায় অচেনা। সেসব পথের দুপাশে কোথাও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, কোথাওবা মলমূত্রের দুর্গন্ধ। উদ্যানে সন্ধ্যা নামতে না নামতেই আলো-আঁধারিতে দেখা মেলে ভবঘুরে ও মাদকসেবীদের। অন্ধকার ঘনিয়ে এলে দূরে কোথাও বসে মাদকের আসর। সব মিলিয়ে সন্ধ্যার পর ঐতিহাসিক এ উদ্যানজুড়ে তৈরি হয় এক ধরনের ভূতুড়ে পরিবেশ। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় অনেকেই দ্রুত উদ্যান ছাড়তে বাধ্য হন। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা অনেকে সন্ধ্যা নামার পর অন্ধকার দেখে ভয়ে উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ করেন না। অথচ এই স্থানটি বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একসময় রমনা রেসকোর্স ময়দান নামে পরিচিত এই স্থানেই ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।

১৯৭২ সালে রেসকোর্স ময়দানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। পরিণত হয় নগরবাসীর সবুজ অবকাশকেন্দ্রে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই ঐতিহাসিক উদ্যানের বড় একটি অংশ এখন মাদক, ভবঘুরে, ময়লা-আবর্জনা ও নিরাপত্তাহীনতার সমস্যায় জর্জরিত বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্ধকারে বাড়ে আতঙ্ক : সরেজমিনে উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, রাতে বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। হাঁটার রাস্তার পাশেও রয়েছে ময়লা-আবর্জনা ও পরিত্যক্ত বিভিন্ন জিনিসপত্র। বসার জন্য তৈরি করা কংক্রিটের জায়গাগুলোর অনেকগুলোই অপরিচ্ছন্ন। কোথাও কোথাও প্লাস্টিকের বস্তা ও আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

দিনের বেলায়ও উদ্যানের বিভিন্ন শেড, গাছের নিচে ও উন্মুক্ত চত্বরে ভবঘুরেদের অবস্থান চোখে পড়ে। সন্ধ্যার পর তাদের সঙ্গে যোগ দেয় মাদকসেবীদের একটি অংশ। অন্ধকারের সুযোগে উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে চলে মাদক কেনাবেচা ও সেবন।

উদ্যানের ভেতরে হাঁটতে আসা সাধারণ মানুষও বলছেন, সন্ধ্যার পর সেখানে যে ধরনের পরিবেশ তৈরি হয় তাতে তাদের মধ্যে ভয় কাজ করে। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় একদিকে যেমন হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে, অন্যদিকে নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয় শঙ্কা। আজিমপুরের বাসিন্দা ওমর আলী জানান, একসময় তিনি নিয়মিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রাতঃভ্রমণে আসতেন। কিন্তু বর্তমানে ভবঘুরে ও মাদকাসক্তদের অবাধ বিচরণের কারণে ভয়ে আর আসেন না।

হাতিরপুলের বাসিন্দা আজিজুর রহমান খান বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এখন উদ্যানে হাঁটতে গেলে নাকে রুমাল চেপে চলতে হয়। ভবঘুরেরা যেখানে-সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করে। তাদের কিছু বলতে গেলে জোটবদ্ধ হয়ে মারতে আসে। সন্ধ্যার পর তো ঢোকাই যায় না, অন্ধকার আর ছিনতাইকারীদের আখড়া থাকে তখন।

মাদকের কেনাবেচা চলে ওপেন-সিক্রেট : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানটিতে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেখানে যখন-তখন গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সেবনের দৃশ্য দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উদ্যানের ভেতরে গিয়ে কয়েকজন তরুণকে গাঁজা বিক্রি করতে দেখা যায়। বিভিন্ন বয়সী মানুষ তাদের কাছ থেকে গাঁজা কিনছিলেন। মোটরসাইকেলে এসেও কয়েকজনকে গাঁজা কিনতে দেখা গেছে।

গাঁজা বিক্রেতাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ বলেন, মাঝেমধ্যে পুলিশ ঝামেলা করে। পরে বড় ভাইয়েরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আর সমস্যা হয় না। অবশ্য মাদক বিক্রির এ অভিযোগ অস্বীকার না করে পুলিশ বলছে, তারা নিয়মিত অভিযান চালায় এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সাত মাসে এক হাজার ৭০০ জনের মতো আসামি গ্রেফতার করেছি। মাদক কারবারিরা আসলে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এগুলো করে।

আনসারের কথা শোনে না মাদকসেবীরা : বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে উদ্যানের ভেতরে একটি মাদক কারবারি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আনসার সদস্য দাবি করেন, পারুল নামের এক নারীকে ওই চক্রের মূলহোতা হিসেবে তারা চেনেন।

'এখানে যে পরিস্থিতি আমরা কিছু বলতে পারি না। আমাদের ওতটুকু ক্ষমতাও নেই। আমরা চাই না এখানে আমাদের কেউ হেনস্তা করুক। আমরা আমাদের বলার কথা বলি, কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনে না'—বলছিলেন ওই আনসার সদস্য।

৪০ আনসারের নিরাপত্তা, তবু নিরাপত্তাহীনতা : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নিরাপত্তায় রয়েছে একটি আনসার ক্যাম্প। সাতটি প্রবেশপথে মোট ৪০ জন আনসার সদস্য পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এত নিরাপত্তাকর্মী থাকার পরও উদ্যানের ভেতরে মাদক কেনাবেচা, ছিনতাই ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনসার ক্যাম্পের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন সময় মাদক বিক্রেতাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে মাদককারবারিদের সঙ্গে কারও কারও সুসম্পর্ক থাকায় অনেক সময় ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া মাদকসেবীদের একটি অংশ ছুরি ও লাঠি নিয়ে চলাফেরা করে। তাদের আটক করতে গেলে অনেক সময় হামলার আশঙ্কা থাকে।

উদ্যানটিতে পুলিশের নিয়মিত টহলও চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ দর্শনার্থীদের। কালেভদ্রে পুলিশি টহল হলেও বিশাল এই উদ্যানের সব এলাকায় তা কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে পারছে না।

মাদক ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ : অভিযোগ রয়েছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি ও সেবন করা হয়। এসব চক্রের সঙ্গে কেউ কেউ ছিনতাইয়েও জড়িত। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে কিংবা খোলামেলা পরিবেশে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর থেকে পরিবার নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে আসেন মো. বিপুল শেখ। তিনি বলেন, বউ-বাচ্চা নিয়ে এখানে এসে ভুলই হয়েছে। সব জায়গায় গাঁজা আর সিগারেটের গন্ধ। বসার জায়গা আছে, কিন্তু আশপাশে সব ধূমপায়ী। এরচেয়ে অন্য জায়গায় গেলে ভালো হতো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে সময়ে সময়ে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের আটক এবং গ্রেফতার করা হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী পরিবর্তন হয়নি।

রেস্টুরেন্টের অবকাঠামো এখন ভবঘুরেদের আস্তানা : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সৌন্দর্যবর্ধন ও ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ছয় বছর আগে ২০২০ সালে সাতটি পয়েন্টে খাবারের রেস্তোরাঁর জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল। পরিবেশবাদীদের বাধা ও মামলার কারণে সেগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার পর এসব অবকাঠামোর কয়েকটি এখন ভবঘুরে ও মাদকাসক্তদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

এসব অবকাঠামোর কোনো কোনোটিতে পরিবার-পরিজন নিয়েও বসবাস করছেন অনেকে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর কিছু জায়গা ফাঁকা পড়ে থাকলেও সেখানে আবারও ভবঘুরে ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ছে। অস্থায়ী খুপরি ও আবর্জনার ডিপো তৈরির অভিযোগও রয়েছে।

ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ঐতিহাসিক উদ্যানে : সরেজমিন উদ্যানের বিভিন্ন চত্বর, গাছের নিচে এবং বসার স্থানগুলো ঘুরে দেখা যায়, অনেক জায়গায়ই পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে। প্লাস্টিকের বোতল-বস্তা, ময়লা-আবর্জনা ও পরিত্যক্ত জিনিসপত্র পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্যানের পরিচ্ছন্নতার কাজে রয়েছেন মাত্র সাতজন কর্মী। বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে থাকা এবং পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের অভাব নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।

মালি না থাকায় উদ্যানের সবুজ পরিবেশের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ফলে যে উদ্যান হওয়ার কথা ছিল রাজধানীবাসীর নির্মল হাঁটা ও অবকাশযাপনের স্থান, তার বিভিন্ন অংশ এখন নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।

হকারদের দৌরাত্ম্য : উদ্যানের মাঝখানে বুক টান করে দাঁড়িয়ে থাকা স্বাধীনতা স্তম্ভের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়ও হুটহাট হকারদের উঠে পড়তে দেখা যায়। দর্শনার্থীদের পিছু নেয় এবং বিভিন্ন পণ্য কিনতে চাপ দেয় এসব হকাররা। ফলে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মর্যাদা রক্ষা, দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং সার্বিক নিরাপত্তা—তিন ক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠছে।

হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে উদ্যানে : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদককারবার, মারামারি, ছিনতাই ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নতুন নয়। এমনকি উদ্যানের ভেতরে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

গত বছরের ১৩ মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা এস এম শাহরিয়ার আলম। মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদকসেবীদের হাতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এসব ঘটনার পরও উদ্যানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি।

শত শত কোটি টাকার প্রকল্প, তবু সংকট : সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে এরই মধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ব্যয় হয় ২৬৩ কোটি টাকা। সর্বশেষ তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। এ পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয় ৩৯৭ কোটি টাকা।

প্রকল্পের আওতায় উদ্যানজুড়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান সংরক্ষণের পাশাপাশি থিম পার্ক, ভূগর্ভস্থ গাড়ি পার্কিং, লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো, ফোয়ারাসহ ১০টি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

একাধিকবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পর সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজ চললেও উদ্যানের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, আলো ও নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উদ্যানের প্রকল্পের কাজ চলায় সেখানে আলাদাভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ নেই।

বন্ধ স্বাধীনতা জাদুঘর : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে অবস্থিত স্বাধীনতা জাদুঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে জাদুঘরটি বন্ধ।

উন্নয়নের সুফল কতটা পাচ্ছে মানুষ : ৬৮ একর আয়তনের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান শুধু একটি পার্ক নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মৃতি ধারণ করে আছে এই স্থান। একই সঙ্গে প্রতিদিন রাজধানীর নানান প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে হাঁটতে কিংবা পরিবার নিয়ে একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে আসেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলো না থাকা, সীমিত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ, মাদক কেনাবেচা ও সেবন, ভবঘুরেদের অবাধ বিচরণ— সব মিলিয়ে ঐতিহাসিক এ উদ্যানের বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প চললেও যদি সন্ধ্যার পর একটি ঐতিহাসিক উদ্যান ডুবে যায় অন্ধকারে, দর্শনার্থীরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এবং উদ্যান যদি হয়ে ওঠে মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র তবে সেই উন্নয়নের সুফল কতটা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন— সামনে আসে এ প্রশ্নও।