মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা

প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ধ্বংসস্তূপ থেকে আবারও মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা। গুঁড়িয়ে দেওয়া রুমেই অস্থায়ীভাবে শুরু হয়েছে টিকাদান। রেগুলার ইপিআইয়ের পাশাপাশি হাম রুবেলার টিকা দেওয়া চলছে। রুমগুলো সংস্কার এবং ধ্বংসস্তুপের আবর্জনা সরানোর কাজ চলছে। গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে এসব কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে।

দেখা যায়, সন্ত্রাসীদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার তিন দিন পর মাথা তুলে দাঁড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে রাড্ডার। ভাঙা ভবনের ইট-রডের স্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির নেতারা শ্রমিক দিয়ে সেগুলো সরানোর কাজ তদারকি করছেন। দুটি রুম প্রাথমিকভাবে কিছু পরিস্কার করা হয়েছে। তাতে কর্মীরা বসে কাজ চালাচ্ছেন।

দেখা যায়, সকালে টিকা দেওয়ার জন্য মায়েরা তাদের শিশুদের নিয়ে এসেছেন। রাড্ডার কর্মীরা টিকা দিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়াও রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তারকেও চোখে পড়ে। তিনি তাদের কর্মীদের নানা বিষয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তার সাংবাদিকদের আলেন, সবার আগে এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যেন নির্ভয়ে কাজ করতে পারি তার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, ৫০ বছরের পুরাতন এ রকম প্রতিষ্ঠানে সমমনা ব্যবসায়ী পরিষদ নামের দুর্বৃত্তরা যেন পুনারায় হামলা না করতে পারে, তার জন্য প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাড্ডা আপনাদের ভালোবাসায় ঋণী। আপনারা সত্য ঘটনা যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেই কারণে রাড্ডার কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের উচ্চ মহল অবগত হয়েছেন। তারাও বিষয়টি দেখছেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এসেছিলেন, তিনি আগের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে যেন কাজ করা যায়, সে ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আপাতত রুমগুলো ঠিক করতে হবে। ইলেকট্রিসিটির ব্যবস্থা করতে হবে। মা ও শিশুরা যেন বসতে পারে তার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। রাড্ডা যেন নির্ভয়ে প্রান্তিক মানুষের সেবা অব্যাহত রাখতে পারে সরকারের কাছে এটিই চাওয়া।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রতিনিধি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবিএম এ রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি সরকারের সর্বোচ্চ মহল সিরিয়াসভাবে নিয়েছেন। আমরা ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের জন্য লোক নিয়োগ করেছি। দিনরাত কাজ করে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে একটি অবস্থানে নিয়ে আসব। আমাদের মন্ত্রী এ বিষয়ে সার্বিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি বলেন, যে-ই এ ঘটনা ঘটাক তা খুব অমানবিক হয়েছে। আমরা যে অবস্থান নিয়েছি, তাতে করে আর কেউ এখানে চোখ তুলতে সাহস পাবে না। তাদের নিরাপত্তার কোনো সমস্যা হবে না। পুলিশ প্রশাসনসহ আমরা সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছি। আশা করছি, ২-৩ দিনের মধ্যে একটা অবস্থানে চলে আসবে। বিদ্যুতের ব্যাপারে এরইমধ্যে মন্ত্রীও কথা বলেছেন।

টিকা দিতে শিশুদের নিয়ে আসছেন মায়েরা : সেখানে কথা হয় কুসুমবাগ এলাকা থেকে আসা মা মাহমুদা আক্তারের সঙ্গে। তিনি এসেছেন তার সাড়ে ৪ মাস বয়সী শিশু মাহিরকে নিয়ে। তিনি বলেন, আজকে তার বাচ্চার রেগুলার টিকা। প্রতিটি টিকাই তিনি রাড্ডা থেকে নিয়েছেন। তিনি বলেন, আজকে বসার জায়গা নেই, গরমে ছেলে কান্না করছেন। এ রকম অবস্থা তো আগে ছিল না। যারা এ কাজ করলো তারা কি মানুষ? তাদের শাস্তি চান তিনি। একই এলাকা থেকে এসেছেন কোহিনূর আক্তার তার ছেলেকে নিয়ে। তিনি বলেন, এমন মানবিক কাজে যারা অমানবিক হলো তাদের বিচার যেন হয়।

আমিন বাজার থেকে এসেছেন উম্মে কুলসুম, ছেলেকে নিয়মিত টিকা দিতে। তিনি বলেন, বাচ্চা হওয়ার সময় থেকে আমি এখানকার সেবা নিয়েছি। খুব ভালো সেবা এখানকার। আমি বলবো, যারা এটা ভেঙেছে সরকার যেন তাদের উপযুক্ত বিচার করে।

জাহানারা এসেছেন তার ছেলেকে হামের টিকা দিতে। তিনি বলেন, আমরা আগে কত সুষ্ঠুভাবে সেবা নিতে পেরেছি। হাজার হাজার মানুষ এখানে সেবা নিতো। অথচ কী কাজটা করলো। যারা ভেঙেছে তাদের সন্তানরাওতো এখানেই টিকা নিয়েছে। তাহলে কেমনে তারা ভাঙতে পারলো।

দেখা যায়, সকাল থেকেই মায়েরা তাদের সন্তানদের টিকা দিতে নিয়ে এসেছেন। পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা মায়েরাও তাদের নানা সমস্যার জন্য পরামর্শ নিতে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে দুটি ফ্যান পাশের বিল্ডিং থেকে লাইন এনে দেওয়া হয়েছে। তাতে গরম থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাচ্ছেন। এছাড়াও রাড্ডার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে ও পেছনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে একদল দুর্বৃত্ত রাড্ডার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া দেয়। পাশাপাশি নজিরবিহীন লুটপাট চালিয়ে ট্রাকে করে মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তার বাদি হয়ে শাহআলী থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রায় ৬ ঘণ্টা তাণ্ডব চলালেও পুলিশ কোনো ভূমিকা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠে। এমন অবস্থায় শাহআলী থানার ওসি জাহাঙ্গীরকে প্রত্যাহার করা হয়।