পদত্যাগ করলেন এমপি মিষ্টি
* আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, দেখা করেছি : ফরদৌসী আহমেদ মিষ্টি * মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য নারী আসনটি যাবে কার ঝুলিতে?
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে ভবনে স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংসদ ভবনে ১৫ মিনিট অবস্থান করেন মিষ্টি। পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, স্পিকার ডেকেছিলেন, এজন্য দেখা করেছি।
সংসদে প্রবেশের সময় তার হাতে একটা ফাইল ছিল। তবে সংসদ থেকে খালি হাতে বের হন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মিষ্টির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে গত বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় সংসদ সদস্য মিষ্টির বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিনগত রাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সংরক্ষিত নারী এমপি ফেরদৌসীকে পদত্যাগের নির্দেশ : রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'দলের হাইকমান্ড তাকে পদত্যাগ করতে বলেছে।'
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এই নির্দেশনা এসেছে বলে জানান তিনি। একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ফেরদৌসীকে সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বিগত প্রায় ৫ দশক ধরে ওই এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য বরাদ্দ নারী সংরক্ষিত আসন থেকে সংসদে নির্বাচিত ৩৬ জন আইনপ্রণেতার একজন ফেরদৌসী। চলতি বছরের ৩ মে সংরক্ষিত আসনের অন্যান্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ফেরদৌসীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একাধিক নেতার নামও আসে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে সেদিন হামলার পর 'সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের' নামে ওই স্থানে সাইনবোর্ড বসানো হয়। ফেরদৌসী জানান, তিনি ২০০২ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দখলে থাকা জমিটি তার সইসহ 'সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির' নামে বরাদ্দের আবেদন জানানো হয়েছিল। ফেরদৌসী সেসময় সমিতির সভাপতি ছিলেন।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুটপাটের ঘটনায় গত বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ফেরদৌসী এই কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন। ২০২৪ সালে অনুমোদিত ৫১ সদস্যের কমিটিতে আহ্বায়কের পর তৃতীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে তার নাম ছিল।
চলতি বছর বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে প্রথমবারের মতো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হন ফেরদৌসী। কিন্তু শপথ নেওয়ার ৫ মাসের কম সময়ের মধ্যে তাকে পদত্যাগ করার নির্দেশনা এলো।
ফেরদৌসীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার মিরপুর এলাকাকে ঘিরেই। তার স্বামী বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান নিউটন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন। ২০০২ সালের ১০ মে নিউটন নিহত হওয়ার পর ফেরদৌসী উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ওই ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। পরে তিনি একাধিকবার কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নেন।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বললেন, 'আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, দেখা করেছি': জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে দেখা করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে মিনিট পাঁচেক তিনি অবস্থান করেন। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি সরাসরি সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান। বের হওয়ার সময় সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকরা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বেরোলে সাংবাদিকরা জানতে চান ভেতরে কী কথা হলো। এ প্রশ্নের উত্তরে মিষ্টি বলেন, 'আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি, কথা বলেছি।'
এ সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, আপনি পদত্যাগ করেছেন কি না? এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি দ্রুত চলে যান। এ প্রসঙ্গে স্পিকারের অফিস থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাড়িতে ওঠার পরও সাংবাদিকরা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমাকে স্পিকার ডেকেছেন, তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি।' পদত্যাগের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, 'তদন্ত হোক।' পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'বিএনপির সিদ্ধান্ত যেটা হবে, তা হবে।'
মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য নারী আসনটি যাবে কার ঝুঁলিতে : জাতীয় সংসদের কোনো সাধারণ আসন শূন্য হলে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটারদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন নতুন সংসদ সদস্য। তবে সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে নিয়মটা ভিন্ন। এ ধরনের আসন শূন্য হলে সাধারণ আসনের মতো সরাসরি ভোট হয় না। যে দল বা জোটের অনুকূলে আসনটি বরাদ্দ ছিল, সেই দল বা জোটের মনোনীত প্রার্থীর মাধ্যমেই তা পূরণ করা হয়। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য হলে কত দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে-জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, 'আইন অনুযায়ী আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। আর নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের আইন অনুযায়ী।' সেখানে অন্য কোনো দল বা জোট প্রার্থী দিতে পারবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'যে দল বা জোটের জন্য আসনটি বরাদ্দ, সেই দল বা জোটই শূন্য আসনটি পাবে। অর্থাৎ, আসনটি যার কোটায়, শূন্য হওয়ার পরও সেই দল বা জোটই আসনটি পাবে।'
