ক্যাবের অভিযোগ
সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী বাজারে সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াচ্ছে
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটি বলেছে, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপণ্য ও ওষুধের অস্বাভাবিক দামের চাপে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নিত্যপণ্য, ওষুধ, এলপিজি সিলিন্ডার ও জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় এসব দাবি জানায় ক্যাব। সভায় ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল, তারা জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তের চাপ সাধারণ মানুষের ওপর এসে পড়ছে। ভোজ্যতেলের দামও আবার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী বাজারে সংকট সৃষ্টি করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, সরকার কি চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে? দেশে সবকিছুর দাম বাড়লেও কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। সামনে রমজানকে বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে এখনই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ক্যাব সভাপতি আরও বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দাবি শুনে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং মধ্যরাতে মূল্যবৃদ্ধির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, জনগণের দাবি সরকার যথাযথভাবে মূল্যায়ন করছে না। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আগেও বাজারে সিন্ডিকেট ছিল, কিন্তু নতুন সরকার এ বিষয়ে এখনও যথেষ্ট জোরালো অবস্থান নিতে পারেনি। সরকারকে অবিলম্বে সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে এবং জনগণের ভাষা বুঝতে হবে। বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজি ও কৃত্রিম সংকট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সিপিডির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দুর্নীতিবাজ ও সিন্ডিকেট চক্র যত শক্তিশালীই হোক না কেন, জনগণের সম্মিলিত শক্তি তার চেয়ে অনেক বড়। সরকারের কাছে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ধনীদের তুলনায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর অনেক বেশি পড়ছে। তাই সরকারকে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে, কৃত্রিম সংকট নিরসন করতে হবে এবং বিকল্প বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সরকার ব্যর্থ হতে না চাইলে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া বলেন, ক্যাব দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভোক্তা অধিকার ও স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে। দ্রব্যমূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি মানুষের জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দিচ্ছে এবং সাধারণ ভোক্তাদের জীবন ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সভায় স্বাগত বক্তব্যে ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জ্বালানি তেলের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ক্যাবের দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে প্রসাধনী থেকে শুরু করে ওষুধ পর্যন্ত নকল ও ভেজাল পণ্যের বিস্তার ঘটেছে। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনেও অসাধু ব্যবসায়ীদের ভূমিকা রয়েছে।
