নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ব্যবস্থা নেবে সরকার
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ভেতরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'ইউ আর আ টেরোরিস্ট', 'হোয়াই ইউ কাম হিয়ার'। এছাড়া, বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে সঙ্গে থাকা সহযোগীর সহায়তায় সামনের দিকে এগিয়ে যান ড. ইউনূস।
এ বিষয়ে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ড. ইউনূস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। সেখানে বিমানবন্দরে তাকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়া তার বিরুদ্ধে হেনস্তার চেষ্টার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ড. ইউনূসের সরকারের কার্যক্রম নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনা থাকতে পারে। আমি নিজেও দেশে বসে সেই সমালোচনা করেছি। কিন্তু এ ধরনের হেনস্তা গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর (প্রতিমন্ত্রী) ক্ষেত্রেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, জুলাই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করা একজন অভিনেত্রীও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পালনকারী বা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এসব ঘটনাকে সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস হিসেবে দেখছে বলেও জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, ওই অভিনেত্রীর ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের যে মর্যাদা (ভিভিআইপি) পাওয়ার কথা, যুক্তরাষ্ট্রে তার নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে।
তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ড. ইউনূসকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে —এনসিপি : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ধরে হেনস্তা ও আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক বিবৃতিতে তা জানানো হয়। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ পতিত ও পলাতক আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা গেছে। একজন সাবেক সরকার প্রধান এবং বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিত্বকে বিদেশের মাটিতে এভাবে ঘিরে ধরে অপদস্থ ও লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে এনসিপি দেশ বিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। দেশে তীব্র ও ঐতিহাসিক এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতিত ও পলাতক আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে না পেরে ধারাবাহিকভাবে বিদেশের মাটিতে দেশের সূর্যসন্তানদের অপমান ও অপদস্থ করার নিম্নস্তরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বেছে নিয়েছে। এটিকে তারা 'রাজনীতি' মনে করলেও বাংলাদেশের আপামর জনগণ এ ধরনের আগ্রাসী কার্যক্রমকে সন্ত্রাস হিসেবে বিবেচনা করে। এই ঘটনার মাধ্যমে আরও একবার পতিত ও পলাতক আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের রিকনসিলিয়েশন সম্ভব নয়। এনসিপি দাবি জানাচ্ছে, ঘটনার ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে হেনস্তায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে হবে। সংবাদমাধ্যমে যেসব আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতার নাম এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিচারের মুখোমুখি করা এখন সময়ের দাবি। বিচার ছাড়া আওয়ামী লীগকে রিকনসিলিয়েশনের আলাপগুলোকে এনসিপি ষড়যন্ত্রমূলক এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার তৎপরতা হিসেবে গণ্য করে।
