সৌদি আরবে কারাবন্দি ৭৫০০ বাংলাদেশি
জানালেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের কারাগারে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি থাকার তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ গতকাল শুক্রবার ঢাকায় ফেরানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ তথ্য দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের বিভিন্ন কারাগারে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি আছেন।"বিভিন্ন সময় তারা আমাদেরকে একটা তালিকা পাঠায়। আমাদেরকে অবহিত করে যে, বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত। বিভিন্ন কারণে তারা দণ্ডিত হয় এবং তারা জেলে থাকে সেই ব্যাপারটা।"
সম্প্র্রতি মক্কার মসজিদে 'অনৈতিক কাজের' অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ার কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, "আমাদের মন্ত্রণালয়ের আমাদের ডেটা বলে যে এখানে ওই যে দুজন বাংলাদেশিকে শিরচ্ছেদ করা হয়েছে, আমরা হারিয়েছি তাদেরকে; তাদের ব্যাপারে আর কোনো ডিটেইলস তারা দেয় নাই।"
মক্কায় মসজিদে 'অনৈতিক কাজের' অভিযোগে ১৪ অক্টোবর নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নামে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর দেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে এ সিদ্ধান্তের আগে তা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে কিছু জানানো হয়নি।
সংবাদমাধ্যমে আসার পর সৌদি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি নিয়ে চিঠি দিয়ে তাদের বিষয়ে তথ্য ও বিস্তারিত জানতে চেয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। এরপর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এ বিষয়ে আলোচনা করার কথা তুলে ধরে শুক্রবার প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, "সৌদি সরকারকে আমরা অফিসিয়ালি চিঠি দিয়েছি রায়ের কপি দেওয়ার জন্য এবং রায়ের কপিটা পেলেই আমরা ডিটেইলস জানতে পারব, কী ঘটনা ঘটেছে।"
স্থানীয় আইনি কাঠামোতে বিচারের এখতিয়ার সৌদি আরবের থাকলেও বাংলাদেশিদের বিষয়ে জানানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, "এখানে আবারও বলছি যে প্রত্যেকটি দেশের নিজস্ব আইনি কাঠামো থাকে। সেই জুডিসিয়ারি, তাদের জুডিসিয়াল সিস্টেমে তারা অনেক তাদের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেভাবে কাজ হয়। "কিন্তু কোনো বিদেশি নাগরিক যদি এভাবে নিহত হয় বা দণ্ডিত হয়, সেটা তো অবশ্যই আমাদের জানার প্রয়োজন আছে। সেজন্য আমরা চিঠি দিয়েছি, আমাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে।"
শামা ওবায়েদ বলেন, "আমরা বিস্তারিত জানতে চাই, আমরা সবকিছু জানতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো ঘটনা আমরা এড়াতে পারি। তো সেজন্যই আমরা কাজটা চালিয়ে যাচ্ছি।" দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিগত আওয়ামী লীগ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায় আছে কি না, সেদিকেও আঙ্গুল তুলেছেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
"আপনারা জানেন, এই দুজন— যাদের দুর্ভাগ্যবশত শিরচ্ছেদ হয়েছে, তাদের এই ঘটনাটা ঘটেছিল ২০২৩ সালে। ২০২৩ সালে কারা সরকারে ছিল? ২০২৩ সালে কারা সরকারে ছিল? ২০২৩ সালে ঘটনা ঘটেছে, তারপরে এসেছে ইন্টেরিম, ইন্টেরিমের দেড় বছর গেছে। তারপরে আমরা বিএনপি সরকার গঠিত হয়েছে গত ৬ মাসে। ৬ মাসে তো এই ইনফরমেশন তারা আমাদেরকে দেয় নাই।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "২০২৩ সালে যদি ঘটনা ঘটে থাকে, তখন আওয়ামী লীগ সরকার ছিল, তারপরে ইন্টেরিম সরকার ছিল, এখন বিএনপি সরকার এসেছে। আমরা এই টাইমে যখনই আমরা কিছু জানতে পারি, অবশ্যই আমরা শতভাগ চেষ্টা করব যে, আমাদের বাংলাদেশি ভাইদেরকে সেভ করতে, বোনদেরকে সেভ করতে।
"আপনাদের এই ব্যাপারে কিন্তু একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আমরা দেখি সৌদি সরকারের সাথে কথা বলে তাদের সাথে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় আমাদের এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনাগুলো যাতে না ঘটে, সেই রকম ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে।" প্রবাসের কোনো সেবার প্রয়োজন হলে দূতাবাসে কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জানানোর পরামর্শ দিয়ে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি হলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, "আমার মিশন সচেষ্ট আছে, যদি কোথাও মিশনের গাফিলতি থাকে সেটাও আমরা দেখব, সেটাও আমরা অ্যাড্রেস করব, সেই শাস্তিও মিশনকে পেতে হবে।"
প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে উদ্যোগের বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে এসে আটকা পড়েছেন, তাদের ভিসা মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকার ও বাংলাদেশ মিশনগুলো কাজ করে যাচ্ছে। আবার যারা চাকরি হারাচ্ছে, তাদের দেশে পুনর্বাসন কিংবা কোনো চাকরিতে নিয়োগে ব্যাপার সরকার দেখার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
