৭ নভেম্বর ও শহীদ জিয়ার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ

মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের পর্যুদস্ত অর্থনীতি, জীবনমান হ্রাস, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বাকশালী শাসনের কালো থাবা, জনগণের নিরাপত্তাহীনতা প্রভৃতি জনগণকে বিষিয়ে তুলেছিল। উৎপাদনব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দেশে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দেয়। ১৯৭৪ সালে দেশে একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, যাতে সরকারি হিসাব অনুযায়ী হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পর্যাপ্ত রিজার্ভ ছিল না। এ কারণে বিদেশি বিশ্লেষকেরা তখন বাংলাদেশকে 'তলাবিহীন ঝুড়ি' (Bottomless Basket) হিসেবে উপহাস করেছিলেন।

পরবর্তী রাজনৈতিক জনসমর্থন : যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর (১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে) এবং ১৯ দফা কর্মসূচি ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনসমর্থন লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে কর্নেল তাহের ও খালেদ মোশাররফের একটি সংযোগ পাওয়া যায়। ১৯৭৪ সালেই জাসদের কথিত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের আদর্শ দিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে 'বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা' নামে সশস্ত্র একটি সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। তাদের ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ব্রিটিশ অথবা পাকিস্তানি সেনাদের মতো হবে না। হবে গণবাহিনী। কোনো অফিসার থাকবে না। সেনাবাহিনীর মধ্যে তাহের ও তার গণবাহিনী 'শ্রেণিসংগ্রাম ও বিপ্লবের' মন্ত্র ছড়িয়ে দেয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর মধ্যে রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে তারা চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন।

১৯৭৫ সালের নভেম্বর মাস ছিল টালমাটাল সময়। একদিকে জেলহত্যা, অপরদিকে ক্যু-পাল্টাক্যু, সেনাকর্মকর্তা হত্যাসহ জাসদের গণবাহিনীর হঠকারী তৎপরতা মিলে এক নারকীয় অস্থিরতায় পূর্ণ ছিল দেশ। নানা সুবিধামহল, বিশেষত স্বাধীনতাবিরোধীরা মাঠে নামার সুযোগটিকে কার্যকর করে।

২ নভেম্বর রাতে খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। তিনি ক্ষমতা নিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন না। এমনকি ক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করার বিষয়েও দোটানায় ছিলেন।

এ পোস্টারে ছিল বারো দফা দাবি। যেমন— 'যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, এমন রাজবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। সেনাসদস্যদের মধ্যে এত র‍্যাংক থাকবে না। বেতন বাড়াতে হবে, থাকা ও খাওয়ার উন্নতি করতে হবে' ইত্যাদি। আর সবচেয়ে জনপ্রিয় দাবি ছিল 'ব্যাটম্যান প্রথা লোপ'। তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত এই পোস্টার সিপাহিদের আকৃষ্ট এবং উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ করে তোলে।

মুসলিম লীগসহ ডানপন্থী দলগুলোও 'বিপ্লবী গণবাহিনী' নাম দিয়ে একটি পোস্টার প্রচার করে সে সময়। ডান চরমপন্থীদের এই পোস্টারে সৈনিকদের দাবি-দাওয়া ছাড়াও খালেদ মোশাররফ যে ভারতের দালাল, তা খুব জোরেশোরে বলা হয়। এই ডান ও বামের মিলন সেনাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। বিশেষত তাহের ও সিরাজুল আলম খান সেনাবাহিনীতে রাতারাতি যে সাম্যবাদ চালু করতে চান, তা সাধারণ সেনাদের মধ্যে 'স্বর্গপ্রাপ্তি' ধরনের অনুকূল সাড়া জাগিয়েছিল। এটা সম্ভব হয়েছিল সেনাবাহিনীতে তাহেরের অনুগত মুক্তিযোদ্ধা ও পাকিস্তান প্রত্যাগত বহু সদস্য থাকায়। তারা তাহেরের প্রতি 'স্বপ্নপূরণের দ্রষ্টা' হিসেবে মনে করে বিশ্বাস করেছিল। মধু এবং দুধের নহর বয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর করেছিলেন তাহের তাদের। তাই এই সিপাহিরা স্লোগান তুলেছিল— 'সেপাই সেপাই ভাই ভাই, অফিসারদের রক্ত চাই।' তারা সর্বোচ্চ পদ চেয়েছিলেন সুবেদার। তার ওপরে আর কোনো পদ থাকবে না।

৬ নভেম্বর মধ্যরাতের পর সাধারণ সেনারা অফিসারদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান। এমনকি তারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে এসে বিশৃঙ্খলভাবে গুলি ছুড়তে শুরু করে।

গণবাহিনী দিয়ে বিপ্লবের স্বপ্ন দেখা কর্নেল তাহের ঘুঁটি নাড়তে শুরু করেছিলেন। শেষাংশে জিয়াউর রহমান সৈনিকদের কাঁধে চড়ে পাশার দান উল্টে দেন। তিনি নায়কের চরিত্র হিসেবে মঞ্চে আবির্ভূত হন। অথচ শুরুতে তিনি গৃহবন্দী হয়েছিলেন। সৈনিকেরা তাকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে উদ্ধার করে কাঁধে চাপিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর দিকে এগিয়ে দেন। এর সঙ্গে জনগণেরও সমর্থন জুটে যায় জিয়ার ভাগ্যে। তাহেরের পক্ষে সেনাবাহিনী বা জনসমর্থন কোনোটাই ছিল না।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দেশের তৎকালীন রাজনীতি ও ক্ষমতার গতিপথ সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিয়েছিল।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী ও জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দীদশা থেকে মুক্ত হন এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এই ঘটনার ধারাবাহিকতায় পরবর্তী কালে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শ ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ বিকাশ লাভ করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন এবং খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। এরপর থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গভীর অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা শুরু হয়।

৩ নভেম্বরের পাল্টা অভ্যুত্থান : সেনাবাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলার অভাব ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একটি পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে। সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে পদত্যাগে বাধ্য করে তার বাসভবনে গৃহবন্দী করা হয় এবং সেনাপ্রধান হন খালেদ মোশাররফ। ৩ নভেম্বরের অস্থিরতার সুযোগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। একই সময়ে খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানকে ঘিরে সামরিক বাহিনী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, এই অভ্যুত্থানের পেছনে প্রতিবেশী দেশের প্রভাব রয়েছে। এতে সাধারণ সৈনিক ও জনতার মধ্যে তীব্র অসন্তোষের জন্ম হয়।

জাসদ ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ভূমিকা : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এবং তাদের সামরিক শাখা 'বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা' (লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে) সাধারণ সৈনিকদের দাবি-দাওয়া ও ক্ষোভকে সংগঠিত করে এক সর্বাত্মক বিদ্রোহের প্রস্তুতি নেয়। নভেম্বরের মধ্যরাতে ঢাকা সেনানিবাসে সাধারণ সিপাহিরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তারা বন্দীদশা থেকে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে আনেন। অন্যদিকে, অভ্যুত্থানের নেতা খালেদ মোশাররফ ও তার সহযোগীরা নিহত হন।

মুক্তির পর সিপাহি ও ঢাকার সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। তারা জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং সিপাহি-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন— 'সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জিয়ার মুক্তি চাই'। এক অভূতপূর্ব ঐক্য বা 'সংহতি' দৃশ্যমান হয়, যা থেকে এই দিনটির নাম হয় 'বিপ্লব ও সংহতি দিবস'।

এ দিবসের প্রধান তাৎপর্য হলো, এটি দেশের তৎকালীন চরম রাজনৈতিক শূন্যতা ও বৈদেশিক হস্তক্ষেপের শঙ্কা থেকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে সুসংহত করেছিল বলে এর সমর্থকেরা মনে করেন।

জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় উত্থান : ৭ নভেম্বরের ঘটনার মধ্য দিয়েই মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আবির্ভূত হন। পরে তিনি উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধারার পরিবর্তন : এই পটপরিবর্তনের ফলে একদলীয় শাসনব্যবস্থা (বাকশাল) পরবর্তী অচলাবস্থা কাটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র চর্চার সূচনা হয় এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির বদলে মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে দেশের অর্থনৈতিক নীতি মোড় নেয়। পরবর্তী কালে জিয়াউর রহমান যে 'বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ'-এর রাজনৈতিক দর্শন প্রবর্তন করেন, তার মূল চেতনা হিসেবে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যকেই তুলে ধরা হয়।

৭ নভেম্বরের এ ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়িত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের সমমনা দলগুলো দিনটিকে 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' হিসেবে পালন করে; অন্যদিকে জাসদ এটিকে 'সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস' এবং আওয়ামী লীগসহ কিছু রাজনৈতিক শক্তি একে 'মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস' হিসেবে বিবেচনা করে। তবে সামগ্রিকভাবে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নির্ণায়ক অধ্যায়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তিত হওয়ার প্রাক্কালে ১৯৭৫ সালের ২৫ আগস্ট জিয়াউর রহমান চিফ অব আর্মি স্টাফ নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। কালের পরিক্রমায় তিনি ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। পূর্বের বাঙালি জাতীয়তাবাদে যেমন ধর্মের একটি প্রভাব লক্ষ করা যায়, তেমনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চেয়েছিলেন এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মূল পরিচয় বহন করে এমন একটি ধারণা প্রচার করতে। এ লক্ষেই তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে গুরুত্ব দিতে থাকেন বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের প্রতি সদয় দৃষ্টিও নিবদ্ধ ছিল তার এ ঘোষণায়। তাই আশির দশক থেকে রাষ্ট্রীয় চিন্তা ও জাতীয়তাবাদী বক্তব্যে ইসলামের প্রাধান্য স্বীকৃত হয়েছে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশী বা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ বলায় সুবিধা হলো এই যে, এতে একদিকে যেমন দেশের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, আবার অন্যদিকে ভারতে স্থিত বাঙালিদের এর আওতার বাইরে রাখা যায়। সবকিছু বিবেচনায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপ্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সরকারি ঘোষণাদ্বারা সংবিধানে সংশোধনী এনে সংবিধানের প্রস্তাবনায় 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' (পরম দয়ালু, দয়াময় আল্লাহর নামে) সংযোজন করেন; সংবিধানের ৮(১) এবং ৮(১ক) অনুচ্ছেদে 'সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' কথাটি যোগ করেন। ৮(১) অনুচ্ছেদে সমাজতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অর্থে। সংবিধানের ২৫(২) অনুচ্ছেদে 'রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করিতে সচেষ্ট হইবেন'— এই ধারা সংযোজন করা হয়।

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, 'জিয়াউর রহমান বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ নামে একটি নতুন ধারণার প্রবর্তন করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, বাংলাদেশে বহুসংখ্যক বিভিন্ন মতের ও ধর্মের জাতিগোষ্ঠী বাস করে। তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার মাত্রা ও ধরন বিভিন্ন। তাই জিয়া মনে করেন যে, শুধু ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে নয়, বরং ভূখণ্ডের ভিত্তিতেই জাতীয়তাবাদকে গ্রহণ করা উচিত। তিনি সকল নাগরিকের ঐক্য ও সংহতির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং এই ধারণায় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার শক্তি হিসেবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে বাংলাদেশে শক্তিশালী ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস পান' (বাংলাপিডিয়া, পৃ. ৩৬)।

একটি ক্রান্তিলগ্নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের গুরু দায়িত্ব নিয়েছিলেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি দেশের কল্যাণে নানা মুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। রাষ্ট্রনায়কোচিত রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে তিনি দেশের উন্নয়নে কাজ করেছেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বাকশালী শাসনব্যবস্থার বিলোপ, কৃষিকাজে ব্যাপক সাফল্য প্রভৃতি কর্মকাণ্ড তাঁকে সম্মানের আসনে আসীন করেছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি নির্মাণ ও বিনির্মাণে শহীদ জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের পরম বন্ধু শহীদ জিয়ার ৭ নভেম্বরের মাধ্যমে জেলখানা থেকে মুক্তি এবং ক্ষমতায় পদার্পণ বাংলাদেশের জন্য একটি সুবার্তা প্রদান করে। তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

লেখক : অধ্যাপক, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষক ও কলামিস্ট