২০ বছর পর ক্ষমতায় থেকে ৭ নভেম্বর পালন

উজ্জীবিত বিএনপি

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

'সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ' ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর রাজপথে উচ্চারিত সেই স্লোগান আবারও শোনা গেল রাজধানীর নয়াপল্টনে। দীর্ঘ দুই দশক পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করল বিএনপি। দিনটির ঐতিহাসিক স্মৃতি ও রাজনৈতিক আবেগকে ধারণ করে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। তাদের উপস্থিতিতে নয়াপল্টনসহ রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই ব্যাপক অংশগ্রহণ দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে 'ঐতিহাসিক সার্বভৌমত্ব র‍্যালি' নামে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এর আগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি নিজে প্রায় সাত কিলোমিটার হেঁটে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন। কাকরাইল, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে শোভাযাত্রাটি জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।

এবারের আয়োজন বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে দলটি দিবসটি পালন করছে। ফলে কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস, আবেগ ও উদ্দীপনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি অংশগ্রহণ তাদের সেই উচ্ছ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও আশপাশের জেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা। তাদের হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। নানা রঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলেন তারা পুরো এলাকা।

নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা, আরামবাগ, নাইটিংগেল মোড়, বিজয়নগর, কাকরাইল, শান্তিনগর ও মালিবাগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয় মানুষের উপস্থিতি। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক থেকে আসা মিছিলগুলো একপর্যায়ে নয়াপল্টনে এসে মিলিত হয়। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

তবে বিশাল এই জনসমাগমের ভিড়ে বিশেষভাবে নজর কাড়ে কয়েকজন প্রবীণের স্লোগান। নয়াপল্টনের জোনাকি সিনেমা হলের সামনে দাঁড়িয়ে তারা দিচ্ছিলেন, 'সিপাহি-জনতা ভাই ভাই, জিয়ার মুক্তি চাই', 'সিপাহি বিপ্লব জিন্দাবাদ, জেনারেল জিয়া জিন্দাবাদ'— এমন সব স্লোগান। চারপাশে যখন বিএনপির দলীয় ও রাজনৈতিক স্লোগানে মুখর রাজপথ, তখন প্রবীণদের কণ্ঠে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের স্লোগান যেন ফিরিয়ে আনে সেই সময়ের স্মৃতি।

এবারের কর্মসূচিতে বিএনপির শীর্ষ নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান ও ফরহাদ হালিম ডোনার। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।