সিপিডির জরিপ
প্রচারের ঘাটতিতে ত্রাণবঞ্চিত অনেকেই
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
পর্যাপ্ত প্রচারের অভাবে করোনাভাইরাস মহামারি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের বরাদ্দ সহায়তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছায়নি বলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির সংক্ষিপ্ত এক মাঠ জরিপে
উঠে এসেছে। সম্প্রতি সিপিডি ও অক্সফামের উদ্যোগে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ত্রাণ ও নগদ সহায়তার জন্য তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীদের টেলিফোন সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জরিপের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে, যা গতকাল মঙ্গলবার এক ভার্চুয়াল সংলাপে তুলে ধরেন গবেষক দলের নেতা মোস্তফা আমির সাব্বিহ।
গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া মহামারির দুর্যোগের মধ্যে চলতি জুলাই মাসে দেখা দেয় দীর্ঘস্থায়ী বন্যা। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা দরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারগুলোর জীবনযাত্রায় নেমে আসে উভয় সংকট।
এ পরিস্থিতিতে সরকার তালিকাভুক্ত অভাবী মানুষদের জন্য নগদ আড়াই হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা ও চাল বরাদ্দ নিয়ে এগিয়ে আসে। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণ হওয়া সেই সহায়তা উদ্যোগ অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে না পৌঁছে বণ্টনের দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের কাছের লোকেরা পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর কারণে ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ কর্মহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছেন, যা মোট শ্রমশক্তির ২১ শতাংশ। এর মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় (১২-২১ জুলাই) রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধায় স্থলভাগের ২৯ শতাংশ তলিয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটেই সরকার বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা, নগদ সহায়তার মতো কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনেক সময় ত্রাণের আড়াই হাজার টাকার জন্য এসএমএস এলেও পরে টাকা আসেনি। যাদের টাকা আসেনি তারা যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। অনেক ক্ষেত্রে অধিক অভাবী ও অতিদরিদ্র মানুষকে বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত সচ্ছল মানুষকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে।
সংলাপে সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কোন প্রক্রিয়ায় কাদের ত্রাণ দেওয়া হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো প্রচারণা মাঠে ছিল না। সেকারণেই অনেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আবার ত্রাণ বিতরণ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝিরও সৃষ্টি হয়েছে। অথচ ত্রাণ বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক প্রচারণার কথা থাকলেও সরকারি কোনো সংস্থা তা করেনি।
