ঢাকা ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

জলবায়ু পরিবর্তন

চীনে অত্যধিক গরম ও দীর্ঘ তাপপ্রবাহের সতর্কতা

চীনে অত্যধিক গরম ও দীর্ঘ তাপপ্রবাহের সতর্কতা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চীনের একপাশে অত্যধিক গরম ও দীর্ঘ তাপপ্রবাহ বইছে এবং অন্যপাশে আরো ঘন ঘন ও অপ্রত্যাশিত হারে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের বার্ষিক জলবায়ু ‘ব্লু বুক’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। দেশটিতে কার্বন নির্গমনের হার বেশি থাকলে ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরো খারাপ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে। ‘ব্লু বুক’-এ চীনা আবহাওয়া প্রশাসন (সিএমএ) সতর্ক করেছে, ৩০ বছরের মধ্যে চীনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১.৭ থেকে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩-৫ ফারেনহাইট) পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পোহাতে হবে পূর্ব চীন এবং জিনজিয়াংয়ের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দাদের।

ব্লু বুকে আরও বলা হয়েছে, গত বছর চীনের গড় তাপমাত্রা একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল। রেকর্ড মাত্রার কারণে উত্তর-পশ্চিমে হিমবাহের গলে বা ডুবে এবং ভূ-পৃষ্ঠ বা ভূ-গর্ভের পলি গলে যেতে শুরু করে। নিজেকে বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বর্ণনা করে চীন। দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার ধরণ এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে দেশটি। চীনে জলবায়ু পরিবর্তনের হার বৈশ্বিক গড় পরিবর্তনের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। একটি সংবাদ সম্মেলনে সিএমএর ন্যাশনাল ক্লাইমেট সেন্টারের ভাইস-ডিরেক্টর ইউয়ান জিয়াশুয়াং বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল একটি অঞ্চল চীন। এটি এমন একটি অঞ্চল যেখানে এই পরিবর্তনের প্রভাব উল্লেখযোগ্য।’ তিনি সতর্ক করেন, কার্বন নির্গমন যদি বেশি থাকে তবে চীনে প্রতি পঞ্চাশ বছরে একবার করে চরম তাপজনিত ঘটনা ঘটবে এবং শতাব্দীর শেষ নাগাদ তা প্রতি বছর অন্তর অন্তর ঘটতে পারে।

তখন বৃষ্টিপাতও দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে এবং আরো অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়া বিভাগ গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছে, আগামী কয়েক মাসে চীনের অধিকাংশ অঞ্চলের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বাড়তে পারে। ইতোমধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি এবং বন্যা শুরু হয়েছে এবং রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অংশের তাপমাত্রা। ফলে খরার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি। বিঘ্নিত হচ্ছে বিদ্যুৎ পরিষেবাও। সরকারি তথ্য অনুসারে, ১৯৬১ সাল থেকে তাপমাত্রার রেকর্ড শুরু করার পর, চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত চীনের গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। আবহাওয়া বিভাগ আরো জানিয়েছে, জুলাইয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডে দুটি টাইফুন আঘাত হানতে পারে। সেগুলো চীনের পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে। গত বছর, চীনের স্থলভাগে ডকসুরি এবং হাইকুই নামের দুটি শক্তিশালী টাইফুন আঘাত হেনেছিল। এতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়, যা কিছু এলাকায় রেকর্ড ভেঙে ফেলে। বৃষ্টির কারণে সেখানে বন্যা দেখা দিয়েছিল। নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল হাজার হাজার মানুষকে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত