ফ্রান্সের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কঠোর হুমকি দিয়েছেন। গাজা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত বোর্ড অব পিসে যোগদানের আমন্ত্রণ প্যারিস প্রত্যাখ্যান করার ইঙ্গিত দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। বিশেষ করে বিশ্বখ্যাত ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনকে লক্ষ্য করে এই বিশাল অংকের শুল্ক আরোপ করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। ট্রাম্প অনেকটা উপহাসের সুরেই বলেছেন যে, তিনি ম্যাক্রোঁর ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাবেন এবং এরপর হয়তো ফরাসি প্রেসিডেন্ট সেই বোর্ডে যোগ দেবেন। যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাকে যোগ দিতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
এই কূটনৈতিক উত্তেজনার পেছনে কেবল গাজা ইস্যুই নয়, বরং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ এবং তা নিয়ে ফ্রান্সের প্রতিক্রিয়াও বড় ভূমিকা রেখেছে। ডেনমার্কের অংশ আর্কটিক ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প কেন অত্যধিক মনোযোগী, সেই বিষয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে আর্কটিকে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকির কারণে ট্রাম্প আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই যুক্তিকে উপহাস করে পোস্ট দেয়, যেখানে ট্রাম্পের পদক্ষেপকে ভবিষ্যৎ ঝুঁকির অজুহাতে আগেভাগে ক্ষতি ডেকে আনার সঙ্গে তুলনা করা হয়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
প্রতিশোধ হিসেবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত বার্তা বা মেসেজ প্রকাশ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। ফাঁস হওয়া ওই বার্তায় দেখা যায়, ম্যাক্রোঁ ইরান ও সিরিয়া ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবস্থান বুঝতে পারছেন না বলে জানিয়েছিলেন। এছাড়া ওই বার্তায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ম্যাক্রোঁ। সেই বৈঠকে তিনি ইউক্রেনীয়, ডেনিশ, সিরীয় ও রুশ প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি একটি নৈশভোজের প্রস্তাবও রেখেছিলেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনের কার্যক্রম তদারকির উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে বোর্ড অব পিস বা শান্তি পর্ষদ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, তার সনদে গাজার বাইরেও বিস্তৃত ভূমিকার ইঙ্গিত থাকায় ফ্রান্স তা নিয়ে আপত্তি তুলেছে। এদিকে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্যারিস।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই শুল্ক হুমকি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অকার্যকর। ওই সূত্র আরও মন্তব্য করেছে যে, পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলার হাতিয়ার হিসেবে বাণিজ্যের ওপর শুল্কের হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য কূটনৈতিক আচরণ হতে পারে না। দুই বিশ্বনেতার এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে আটলান্টিকের দুই পাড়ের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।
