শীতকালীন ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা, মৃত্যু ২৩

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লাখো নাগরিক। প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি। মেরু অঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা শুষ্ক ও শীতল বাতাসে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। একই সঙ্গে প্রবল বরফপাত, জোরালো বাতাস, বরফ-শীতল বৃষ্টিধারা ও শিলাবৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের মানুষ। আবহাওয়াবিদরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত হিমাংকের নিচেই থাকবে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ‘আজ রাতে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শীতকালীন ঝড়ের কারণে অনেক এলাকা এখনও বিদ্যুৎবিহীন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক।’

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় আকাশ পরিষ্কার হয়ে এলেও উত্তর-পশ্চিমের এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন তুষারপাত অব্যাহত আছে। কানেকটিকাটে এক দিনেই ২২ ইঞ্চি (৫৬ সেন্টিমিটার) বরফ পড়েছে। বোস্টন, ম্যাসাচুসেটসে ১৬ ইঞ্চিরও (৪০ দশমিক ছয় সেন্টিমিটার) বেশি বরফ পড়ে। ঝড়ের কবলে ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে তথ্য নিয়ে এএফপি প্রাণহানির সংখ্যা চিহ্নিত করেছে। নউইয়র্ক সিটিতে নিম্নগামী তাপমাত্রার মধ্যে আট ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। গত সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিলেন বলে জানিয়েছে পাওয়ার আউটেজ ডট কম। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের টেনেসি, টেক্সাস, মিসিসিপি ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা এই বৈরি আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৯ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে প্রবল ঠান্ডা আবহাওয়ার কবলে পড়েছে। মিনেসোটা ও উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি অংশে সকালে মাইনাস ৩০ দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখা দেয়। শনি ও রোববারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক অঙ্গরাজ্যে এক ফুটের বেশি বরফ পড়েছে। কোনো কোনো জায়গায় আরও বেশি। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুসারে, নিউ মেক্সিকোর বোনিতো হৃদে সর্বোচ্চ ৭৮ দশমিক সাত সেন্টিমিটার বরফ পড়েছে।