চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়া যুক্তরাজ্যের জন্য ‘খুবই বিপজ্জনক’। এমন এক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করলেন, যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বেইজিং সফর রয়েছেন ও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন। পশ্চিমা নেতারা ট্রাম্পের অনিশ্চিত আচরণে উদ্বিগ্ন থাকলেও, স্টারমার সর্বশেষ নেতা হিসেবে চীন সফরে গেছেন।
গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ‘আরও পরিশীলিত সম্পর্ক’, বাজারে প্রবেশাধিকারের সুযোগ, কমানো শুল্ক ও বিনিয়োগ চুক্তির আহ্বান জানান। পাশাপাশি দুই নেতা ফুটবল ও শেক্সপিয়ারের সাহিত্য নিয়েও আলোচনা করেন।
এদিকে, ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে বলেন, এটা তাদের জন্য খুব বিপজ্জনক।
আবার আগামী এপ্রিলেই নিজে চীন সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে গত সপ্তাহে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বেইজিং সফরে অর্থনৈতিক চুক্তির পর ট্রাম্প কানাডার ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। অন্যদিকে, ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য না করলেও ব্রিটিশ বাণিজ্য বিভাগের মন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্ট বলেন, ট্রাম্প যা বলেছেন তা ‘ভুল’। অবশ্যই আমরা ‘চোখ খুলেই’ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছি।
স্টারমারও একই সময়ে বেইজিংয়ে ইউকে-চায়না বিজনেস ফোরামে বলেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ‘খুব উষ্ণ’ বৈঠকগুলো ‘বাস্তব অগ্রগতি’ এনেছে। তিনি ভিসামুক্ত ভ্রমণ ও মদে শুল্ক কমানোর বিষয়ে হওয়া চুক্তিকে ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন। স্টারমার বলেন, এইভাবেই আমরা পারস্পরিক আস্থা ও সম্মান তৈরি করি, যা অত্যন্ত জরুরি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় আসার পর স্টারমারের লেবার সরকার এখনো যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পূরণে সংগ্রাম করছে। আর সে কারণেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
একই সময়ে ট্রাম্পের অনিশ্চিত শুল্ক হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণা-সংক্রান্ত রাজনৈতিক উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রদের, বিশেষত যুক্তরাজ্যকে, অস্থির করে তুলেছে। চীনে যাওয়ার বিমানে সাংবাদিকদের স্টারমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে যুক্তরাজ্য বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করলেও সমস্যা নেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ও বাণিজ্য- সব ক্ষেত্রেই আমরা পাশাপাশি। স্টারমার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মধ্যে যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
