যুদ্ধের হুমকিতে ইরান ভীত নয় : আরাকচি

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকি কিংবা যুদ্ধের রক্তচক্ষু কোনো কিছুতেই ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। গত রোববার তেহরানে আয়োজিত এক ফোরামে তিনি স্পষ্ট করেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় তেহরান কখনই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ত্যাগের প্রস্তাব গ্রহণ করবে না।

এএফপির অংশগ্রহণে আয়োজিত ওই ফোরামে আরাকচি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের আস্থা স্থাপনের জায়গা খুব কম। আমেরিকান পক্ষ পুনরায় আলোচনাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি জানান, পরমাণু সমঝোতা বা ওমানে চলমান আলোচনার বিষয়ে ইরান তার কৌশলগত অংশীদার চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করছে।

পশ্চিমা দেশ ও ইসরায়েলের অভিযোগ ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। এই অভিযোগ অস্বীকার করে আরাকচি এক ব্যতিক্রমী ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন- ‘তারা আমাদের পারমাণবিক বোমাকে ভয় পায়, অথচ আমরা কোনো বোমা চাই না। আমাদের প্রকৃত পারমাণবিক বোমা হলো বড় শক্তিগুলোর অন্যায্য দাবিতে না বলার ক্ষমতা। সমৃদ্ধকরণ আমাদের অধিকার, আর আমাদের আচরণ নির্ধারণ করার অধিকার অন্য কারও নেই।’ আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোতায়েন এবং ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের হুমকির বিষয়ে আরাকচি বলেন, ইরান এসব সামরিক মহড়ায় মোহিত বা ভীত নয়। গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ইরান কোনো চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

গত শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরান চাইছে তাদের ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। আরাকচির মতে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হতে পারে দুপক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরির প্রথম পদক্ষেপ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার টেবিলে আনতে চাইলেও তেহরান তাতে সাফ মানা করে দিয়েছে।

এমন এক সময়ে এই কূটনৈতিক বাগযুদ্ধ চলছে যখন ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও উত্তপ্ত। সরকারবিরোধী বক্তব্যের অভিযোগে সম্প্রতি তিনজন প্রভাবশালী সংস্কারবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি নোবেল বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদীকে নতুন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা চলছে।