উত্তরসূরি হিসেবে মেয়েকে প্রস্তুত করছেন কিম জং উন

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার মেয়েকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে ধারণা করছে দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদ সদস্যরা বলেছেন, দেশের নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়েও কিম জং উনের মেয়ে মতামত দিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার এক ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির সংসদ সদস্যরা। সংসদ সদস্যরা বলেছেন, কিম জং উনের কন্যা কিম জু আয়ে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির আসন্ন বৈঠকে উপস্থিত থাকেন কি না এবং তাকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, এমনকি তিনি কোনও আনুষ্ঠানিক পদ গ্রহণ করেন কি না, সেই বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনআইএস)। এনআইএসের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশটির আইনপ্রণেতা লি সিয়ং কুয়েন বলেন, ??অতীতে এনআইএস কিম জু আয়েকে ‘উত্তরসূরি হিসেবে শেখার পর্যায়ে আছে বলে বর্ণনা করেছিল। কিন্তু আজ যে শব্দচয়ন ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে তিনি অভ্যন্তরীণভাবে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর্যায়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিম জু আয়ের বয়স কিশোর বয়সের শুরুর দিকে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মধ্যে জল্পনা রয়েছে, তাকে দেশের চতুর্থ প্রজন্মের নেতা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যেই তিনি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ক্রমান্বয়ে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থিত হচ্ছেন। অস্ত্র প্রকল্প পরিদর্শনসহ বিভিন্ন মাঠপর্যায়ের নির্দেশনামূলক কার্যক্রমে বাবার সঙ্গে তাকে দেখা যাচ্ছে। লি সিয়ং কুয়েন ও আরেক আইনপ্রণেতা পার্ক সুন-উন বলেছেন, এনআইএস মনে করে, তিনি নীতিগত বিষয়ে মতামত দেওয়া শুরু করেছেন এবং বাস্তবে তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ওয়ার্কার্স পার্টি নবম কংগ্রেসের উদ্বোধনী বৈঠক আয়োজন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ওই বৈঠকে আগামী কয়েক বছরের জন্য অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বড় ধরনের নীতিগত লক্ষ্য প্রকাশ করা হবে। আইনপ্রণেতা পার্ক ও লি বলেছেন, নেতা কিম জং উন বড় আকারের সাবমেরিন প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন, যা সর্বোচ্চ ১০টি সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) বহনে সক্ষম হতে পারে।