যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের শঙ্কার মধ্যেই তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দেশ দুটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জের্ড ক্রুসনার।

গতকাল বৃহস্পতিবার জেনেভায় অবস্থিত ওমানের দূতাবাসে এ আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দুই দেশের পুরো আলোচনাই হয়েছে পরোক্ষভাবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের সঙ্গে পৃথকভাবে একাধিক দফায় বৈঠক এবং বার্তা আদান-প্রদান করবেন। এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে।

২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সব থেকে বড় সেনা সমাবেশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানও এই আক্রমণের জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই আলোচনাকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধার আগে এটিই সর্বশেষ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে,। এরপর হয়ত মার্কিন সেনারা ইরানে হামলা শুরু করতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প যদিও বলেছেন, তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে পছন্দ করেন।

তবে ইরানের নেতাদের চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য দেশটির ওপর সীমিত পরিসরে হামলার কথা বিবেচনা করছেন তিনি। যদিও আলোচনায় তিনি কী দাবি করছেন এবং ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আমেরিকা বোমা হামলা চালানোর আট মাস পর এখন কেন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি ব্যাখ্যা করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ইরান তার ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তারা যে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।