সরকার গড়তে এলেন বিজয় ফিরিয়ে দিলেন রাজ্যপাল

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ইতিহাস তৈরি করে জয়ী হয়েছে দক্ষিণী চলচ্চিত্র তারকা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। কিন্তু তারপরও সরকার গঠন নিয়ে বড় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বিজয়। গত মঙ্গলবার মেয়াদ শেষ হয়েছে তামিলনাড়ুর বিদায়ী বিধানসভার। রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দল দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাজাগাম বা ডিএমকের প্রেসিডেন্ট এমকে স্ট্যালিন এরইমধ্যে পদত্যাগও করেছেন। বিদায়ী বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেরদিনই, গত বুধবার লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে সরকার গড়ার আর্জি জানান বিজয়। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল। সূত্রের খবর, এ দিন ১১২ জন বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থনের চিঠি নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন বিজয়; কিন্তু রাজ্যপাল তাকে ১১৮ জন প্রার্থীর সমর্থন নিয়ে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২৩৪ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসন জিতেছে। কিন্তু বিজয় দুটি কেন্দ্র (পেরাম্বুর ও ত্রিচি পূর্ব) থেকে জয়ী হওয়ায়, তাকে একটি আসন ছাড়তে হবে। ফলে দলীয় বিধায়কের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৭। এদিকে, এ দিনই শর্তসাপেক্ষে তামিলাগা ভেত্রি কাজগামকে সমর্থন করতে রাজি হয়েছে কংগ্রেস। তাদের ৫ জন বিধায়ক এ বার জয়ী হয়েছে এবারের নির্বাচনে। ফলে দুই দলের মিলিত বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১১২ (১০৭+৫)। অর্থাৎ, ম্যাজিক ফিগার থেকে এখনও ৬টি আসন দূরে রয়েছেন বিজয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে টিভিকে এখন অন্যান্য দলের সমর্থন খুঁজছে। এরইমধ্যে সাবেক বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল অল ইন্ডিয়া দ্রাবিড়া মুন্নেত্র কাজাগাম বা এআইডিএমকের সাধারণ সম্পাদক এবং তামিলনাড়ুর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এড়াপ্পাদি কে. পালানিস্বামীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে টিভিকে নেতৃত্ব। পাশাপাশি, ডিএমকের জোটসঙ্গী ভিড়ুথালাই চিরুথাইগাল কাচি বা ভিসিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে এই দুই দলের কোনোটিই টিভিকের সঙ্গে জোট করার ব্যাপারে এখনও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। বামপন্থি দলগুলোর কাছেও জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল টিভিকে। তবে তামিলনাড়ুর পার্লামেন্টের দুই বামপন্থি দল সিপিআই এবং সিপিআই (মার্কসিস্ট) পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তারা ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটেই থাকবে।