প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের থাবা, ২ ভারতীয় আক্রান্ত

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেদারল্যান্ডসের বিলাসবহুল প্রমোদতরি এমভি হন্ডিয়াস জাহাজের ক্রু সদস্যদের মধ্যে অন্তত দুজন ভারতীয় নাগরিক হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত ওই জাহাজের পাঁচজন আক্রান্ত হওয়ার বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে। ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস পরিচালিত এই প্রমোদতরীটি গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। আগামী ১০ মে এটি স্পেনের ক্যানারি আইল্যান্ডে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সন্দেহভাজন আটটি কেসের মধ্যে পাঁচটিতে হান্টাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মৃতদের মধ্যে ৬৯ বছর বয়সী এক ডাচ নারী রয়েছেন। এছাড়া তার স্বামী (ডাচ নাগরিক) এবং এক জার্মান নারীরও মৃত্যু হয়েছে, যাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস নিশ্চিত করেছে যে, মৃত ডাচ ব্যক্তির মরদেহ জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এমভি হন্ডিয়াসের সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশ দিয়েছে এবং যারা আক্রান্তদের সেবা করছেন তাদের উচ্চতর ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে, জাহাজ থেকে নেমে যাওয়া যাত্রীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস জানিয়েছে, গত ২৪ এপ্রিল সেন্ট হেলেনা দ্বীপে অন্তত ১২টি দেশের ২৯ জন যাত্রী সেন্ট হেলেনায় জাহাজ থেকে নেমে গেছেন, যাদের মধ্যে সাতজন ব্রিটিশ নাগরিক। উল্লেখ্য জাহাজটিতে শুরুতে ২৮টি দেশের প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। এর মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৮ জন, যুক্তরাজ্যের ৩১ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ জন, নেদারল্যান্ডসের ১৬ জন, স্পেনের ১৪ জন, জার্মানির ৯ জন, কানাডার ৬ জন এবং ভারতের ২ জন ক্রু সদস্য রয়েছেন।

এটি কোভিড নয়: ডব্লিউএইচও

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট করেছে যে, এই প্রাদুর্ভাব কোনও মহামারীর শুরু নয়। ডব্লিউএইচও-এর সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বলেন, হান্টাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ধরণ কোভিড-১৯ এর চেয়ে আলাদা। এটি মূলত ‘নিবিড় ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের’ মাধ্যমে ছড়ায়। তিনি বলেন, এটি কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়, এটি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ছড়ায়।

সাধারণত ইঁদুরের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ালেও, ডব্লিউএইচও উল্লেখ করেছে, এবারই প্রথম মানুষের মাধ্যমে মানুষে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।