উত্তর প্রদেশে শক্তিশালী ঝড় ও ভারি বর্ষণে নিহত ১০০ ছাড়াল

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় শক্তিশালী ঝড় ও ভারি বৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত এবং আরও কয়েকশ’ মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও শক্তিশালী ঝড়ে রাজ্যজুড়ে কয়েক হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজার হাজার গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে।

সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, গত বুধবারের এ দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে প্রয়াগরাজ জেলায়, সেখানে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ভাদোহীতে ১৮ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন, ফতেহপুরে ১০ জন, উন্নাও ও বদায়ুঁ জেলায় ছয়জন করে মারা গেছেন। প্রতাপগড় এবং বেরেলিতে চারটি এবং সীতাপুর, রায়বরেলি এবং চান্দৌলি, কানপুর দেহাত, হারদোই এবং সম্বল থেকেও বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবল ঝড়ে কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে এবং বজ্রপাতে এসব প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই আঘাতে জানমালের পাশাপাশি ক্ষেতের ফসল ও গবাদি পশুরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জানা গেছে, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর প্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে এবং তীব্র বেগে বাতাস শুরু হয়। এতে বিভিন্ন জেলোয় রাস্তার ধারের বড় বড় বিলবোর্ড ও টিনের চালা এবং গাছপালা উপড়ে যানবাহনের ওপরে পড়ে। এতে বেশ কয়েকটি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে।

রাজ্যজুড়ে ঝড়ের ভয়াবহতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য ভিডিও শেয়ার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বারেলির বামিয়ানা গ্রামের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রবল বাতাসে এক ব্যক্তি একটি টিনের চালাসহ শূন্যে ছিটকে ৫০ ফুট দূরে একটি মাঠে গিয়ে পড়ছেন।

এদিকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারী বৃষ্টি, ঝড় ও বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এছাড়া ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে রাজস্ব ও কৃষি বিভাগসহ বিমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত জরিপ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।