‘জঙ্গলের আইন’ ফিরে আসছে, যৌথ ঘোষণায় রাশিয়া-চীনের সতর্কবার্তা
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ব আবারও ‘জঙ্গলের আইনের’ দিকে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে রাশিয়া ও চীন। গতকাল বুধবার দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের পর প্রকাশিত এক যৌথ ঘোষণায় এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়, ঔপনিবেশিক যুগের মানসিকতা নিয়ে কিছু দেশের বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভক্ত হয়ে পড়া এবং ‘জঙ্গলের আইন’ ফিরে আসার ঝুঁকি বাড়ছে।
ক্রেমলিন প্রকাশিত রুশ ভাষার ওই ঘোষণায় বলা হয়, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়নের এজেন্ডা নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভাজন এবং ‘জঙ্গলের আইন’-এ ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’ ঘোষণায় আরও বলা হয়, ‘কিছু রাষ্ট্র একতরফাভাবে বিশ্বব্যবস্থা পরিচালনা, নিজেদের স্বার্থ পুরো বিশ্বের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এবং অন্য দেশগুলোর সার্বভৌম উন্নয়ন সীমিত করার যে চেষ্টা করেছে, তা ঔপনিবেশিক যুগের মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ- আর সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।’ যৌথ ঘোষণায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে অতীতে চীন ও রাশিয়া উভয়ই অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে নেতৃত্বাধীন একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কয়েক দিনের মাথায় এই বৈঠক করলেন পুতিন ও শি। বৈঠকে দুই নেতা নিজেদের সম্পর্ককে ‘অটুট’ ও ‘অভূতপূর্ব’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এএফপি জানিয়েছে, ইউক্রেনে ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে মস্কো ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির বড় ক্রেতা হিসেবে চীন এখন দেশটির প্রধান ভরসা। গতকাল বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পুতিনকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান শি জিনপিং। গত সপ্তাহে ট্রাম্পকে যেভাবে স্বাগত জানানো হয়েছিল, পুতিনকেও প্রায় একই ধরনের সামরিক কুচকাওয়াজ ও শিশুদের স্লোগানের মধ্য দিয়ে বরণ করা হয়। তবে বৈঠকের ভাষা ছিল অনেক বেশি উষ্ণ। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, শি পুতিনকে বলেন, ‘চীন ও রাশিয়া রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা এবং কৌশলগত সমন্বয়কে ধারাবাহিকভাবে আরও গভীর করেছে, যার দৃঢ়তা অটুট রয়েছে।’ রুশ সংবাদমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, চীনা একটি প্রবাদ উদ্ধৃত করে পুতিন শি-কে বলেন, ‘একদিন দেখা না হলে মনে হয় তিনটি শরৎ কেটে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৈরী বহিরাগত পরিস্থিতি সত্ত্বেও’ দুই দেশের সম্পর্ক এখন ‘অভূতপূর্ব উচ্চতায়’ পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে শি জিনপিং বিশ্বে ‘একতরফা ও আধিপত্যবাদী প্রবণতা’ বাড়ছে বলেও সতর্ক করেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সফরে বড় কোনো তাৎক্ষণিক চুক্তি হয়নি। তবে আজ পুতিন ও শি বাণিজ্য, জ্বালানি ও গণমাধ্যম খাতে একাধিক চুক্তিতে সই করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক সহকারী ইউরি উশাকভ জানান, পরে দুই নেতা চা-আড্ডায় ইরান, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুতিনের এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পে অগ্রগতি আনা। এই পাইপলাইন মঙ্গোলিয়া হয়ে রাশিয়া থেকে চীনে গ্যাস সরবরাহ করবে। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আজ বলেন, প্রকল্পের রুট ও নির্মাণপদ্ধতি নিয়ে ‘মৌলিক সমঝোতা’ হলেও এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক হয়নি এবং কিছু বিষয় চূড়ান্ত করা বাকি। ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া নিজেদের জ্বালানিকে বিকল্প উৎস হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
পুতিন বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন জ্বালানি খাতে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে।
