ভিয়েতনামের পর ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভিয়েতনামের কাছে ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রপ্তানির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। একই ধরনের একটি চুক্তি ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেস কুমার সিং।
সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি এরই মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যদিও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিয়েতনামের সঙ্গে এই চুক্তির মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কোটি রুপি। এর আওতায় উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি, প্রাথমিক পর্যায়ের ক্ষেপণাস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভবিষ্যতে দেশটি ব্রহ্মোসের আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য সংস্করণও কিনতে পারে।
২০২২ সালে প্রায় ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চুক্তির মাধ্যমে ফিলিপাইনস ব্রহ্মোসের প্রথম বিদেশি ক্রেতা হয়। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে দেশটি হবে দ্বিতীয় বিদেশি ক্রেতা।
ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি শব্দের গতির প্রায় তিন গুণ বা ম্যাক-৩ গতিতে উড়তে পারে। স্থল, সমুদ্র ও আকাশ- তিনটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই এটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। দ্রুতগতির পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতার কারণে এটি বিশেষভাবে সমাদৃত। বিশেষজ্ঞদের মতে, শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ বা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় দ্রুত আঘাত হানতে পারায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশগুলোর কাছে ব্রহ্মোস আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
এই চুক্তিগুলো এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দক্ষিণ চীন সাগরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের সঙ্গে চীনের সমুদ্রসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রহ্মোস রপ্তানি ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য। ২০২০ সালের গালওয়ান ভ্যালিতে সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে নয়াদিল্লি।
এদিকে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডও ব্রহ্মোস কেনার সম্ভাবনা যাচাই করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের রপ্তানি ৫০ হাজার কোটি রুপিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
