ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি আবার খুলল
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান তাদের ভূগর্ভে চাপা পড়া অস্ত্রভান্ডারগুলো দ্রুত খুঁড়ে বের করেছে। এখন দেশটি ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে আরও অনেক বেশি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই তৎপরতা মার্কিন বোমাবর্ষণ কৌশলের সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে আগ্রাসন চালায়। তারা রাস্তাঘাট ধ্বংস করে দেয় এবং সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। এতে ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে প্রবেশ করতে পারছিল না। তবে সিএনএন কিছু স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করেছে। সেখানে দেখা যায়, বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাকের মতো সাধারণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেই ইরান ওই ব্যয়বহুল হামলার জবাব দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, শুধু সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখে হামলা চালিয়ে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি আবার চালুর বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। তবে এর বিস্তারিত চূড়ান্ত করতে কয়েক মাস সময় লাগবে।
জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন (পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ) স্টাডিজের গবেষণা সহযোগী স্যাম লেয়ার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেন, যদি আবার সংঘাত শুরু হয়, তবে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ চালিয়ে যেতে পারবে। এর জন্য তাদের কেবল ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপক (লঞ্চার) এবং কর্মী দরকার। স্যাম লেয়ার আরও বলেন, ইরানের কাছে এখনো বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে। এই লঞ্চারগুলোকে অস্ত্রে সজ্জিত করতে বাধা দেওয়ার মতো কিছু নেই। লড়াই চলার সময় ইরান চরম ঝুঁকি নিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথগুলো খননের কাজ করেছে। খননকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ওপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার হামলা চালিয়েছিল। ওই খননকাজের কারণেই তেহরান যুদ্ধাবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রাখতে পেরেছিল। তবে তখন হামলার মাত্রা বেশ কম ছিল। সাত সপ্তাহের বেশি সময় আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর পর থেকেই ঘাঁটিগুলো খননের কাজে ইরানের তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সিএনএন দেখতে পেয়েছে, ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ৬৯টি সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছিল। এর মধ্যে ৫০টির বাধা ইতিমধ্যে সরিয়ে ফেলেছে ইরান। ঘাঁটির অন্যান্য অংশও মেরামত করেছে তারা।
