স্নাতক পর্যায়ে ১২ হাজারের বেশি কোর্স বাতিল করল চীন

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল মানুষের কাজের ধরনই বদলে দিচ্ছে না, বরং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য কোন বিষয় বেছে নেবে তাও নতুন করে নির্ধারণ করছে।

কনসাল্টিং, ফাইন্যান্স, মার্কেটিং এবং ম্যানেজমেন্টের মতো ক্ষেত্রগুলোতে এআই যেভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করা শুরু করেছে, তাতে শিক্ষার্থীরা এমন সব ডিগ্রিতে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করতে দ্বিধাবোধ করছে যার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

গত মাসেই বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে যে, দ্বিধাগ্রস্ত আবেদনকারীদের আকৃষ্ট করতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের এমবিএ প্রোগ্রামের টিউশন ফি কমাতে শুরু করেছে। এবার একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে চীনে, তবে তা আরও অনেক বড় পরিসরে।

প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে কর্মসংস্থানের বাজারের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের একাডেমিক কোর্সগুলোতে বড় ধরনের রদবদল করছে- পুরোনো কোর্সগুলো বাদ দিয়ে সেগুলোর জায়গায় উদীয়মান প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের একাডেমিক কোর্সগুলোতে একটি বিশাল পুনর্বিন্যাস চালাচ্ছে। অপ্রচলিত বা পুরোনো হয়ে যাওয়া প্রোগ্রামগুলো বাতিল করে উদীয়মান প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে নতুন কোর্স চালু করা হচ্ছে। বেইজিংয়ের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে উচ্চশিক্ষাকে দেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা যায়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো আগামী প্রজন্মের শিল্পগুলোতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব অর্জন করা। এই পরিবর্তনের পেছনে আরেকটি বড় বাস্তব কারণ রয়েছে: চীনের গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির বাজার বর্তমানে বেশ চাপের মধ্যে আছে। আগের চেয়ে অনেক বেশি শিক্ষার্থী পাস করে বের হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু অনেকেই তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছে না। তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার এখনও বেশ উচ্চ (১৬ শতাংশের বেশি), অন্যদিকে নিয়োগকর্তারা যেসব দক্ষতা খুঁজছেন, এআই এসে সেগুলোকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। এর ফলে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন সব বিষয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে যেগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অতিরিক্ত বেশি অথবা যেগুলো বর্তমান পরিবর্তনশীল অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।