কঙ্গোয় ৩০ বাস্তুচ্যুতের মৃত্যু, দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কঙ্গোর উত্তরপূর্বাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিকদের একটি শিবিরে মে মাসের শুরু থেকে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শিবিরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুর এই হার নজিরবিহীন। এই ৩০ জনের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে ইবোলা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় প্রাণঘাতী এই রোগটি সেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কঙ্গোর ইবোলা প্রাদুর্ভাবের উপকেন্দ্র বুনিয়া শহরের এই কিগোনজে শিবিরের রোগী এবং তাঁদের স্বজনরা গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরীক্ষা করাতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে সব মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন শিবিরের মুখপাত্র ও ক্যাথলিক সাহায্য সংস্থা কারিতাস। তবে মৃত সবার মধ্যেই মাথাব্যথা, জ্বর এবং বমির মতো ইবোলার স্পষ্ট উপসর্গ ছিল। কিগোনজ শিবিরের মুখপাত্র দেসিরে গ্রোদিয়া বাপি রয়টার্সকে বলেন, মানুষ আগে কখনও এভাবে হুটহাট মারা যেত না। ১৫ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা থাকা এই শিবিরে মৃত্যুর এ ঘটনা কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের ৫০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে অলক্ষ্যে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি করেছে। যথাযথ স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাব ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতি স্থানীয়দের অনীহা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

চারজন সাহায্য কর্মী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনসহ প্রধান দাতারা পানি, স্বাস্থ্যবিধি এবং স্যানিটেশন খাতের তহবিল কমিয়ে দেওয়ায় কঙ্গোর বাসিন্দারা ইবোলার মতো সংক্রামক রোগের মুখে অরক্ষিত হয়ে পড়ছেন। ইবোলা মূলত মানুষের শরীরের তরল ও বর্জ্যের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই এই খাতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোয় টয়লেট ও হাত ধোয়ার স্টেশন তৈরির তহবিল ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কমে প্রায় তিনি কোটি ৮০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া চলতি বছরের প্রয়োজনীয় আট কোটি ডলারের আবেদনের বিপরীতে মাত্র ২১ শতাংশ তহবিল পাওয়া গেছে। কঙ্গোতে যুদ্ধ থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা বেসামরিক মানুষের জন্য শত শত শিবির রয়েছে।

কিগোনজে শিবিরের পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। এক মিটারেরও কম দূরত্বে থাকা প্লাস্টিকের তাঁবুতে গাদাগাদি করে বড় বড় পরিবার বাস করছে এবং শিশুরা কাদার মধ্যে খালি পায়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শিবিরের মুখপাত্র গ্রোদিয়া জানান, সেখানে পর্যাপ্ত টয়লেট নেই এবং যেগুলো আছে সেগুলোও প্রায়ই উপচে পড়ে। তিনি বলেন, ‘ল্যাট্রিনগুলো খুব দ্রুত ভরে যায় এবং মানুষকে কোনো সুরক্ষা ছাড়াই খালি হাতেই সেগুলো পরিষ্কার করতে হয়।’ তহবিল সংকটের কারণে সাহায্য সংস্থা মার্সি ক্রপস ২০২৪ সালে যেখানে ১ লাখ ২৫ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে ৪০০টি গণশৌচাগার এবং ৮২টি পানির কল দিয়েছিল, চলতি বছরে এসে তারা মাত্র ১৯ হাজার মানুষকে সেবা দিতে পারছে। তাও কোনো গণশৌচাগার ছাড়াই, মাত্র ৬টি পানির কলের মাধ্যমে। কঙ্গোর ওয়াশ পরিষেবায় এর আগে ওয়াশিংটনই ছিল সবচেয়ে বড় অবদানকারী। রোগ ছড়ানো কমাতে ২০২৪ সালেও তারা ছয় কোটি ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এই তহবিল কাটছাঁটের পক্ষে সাফাই গেয়ে জানিয়েছে, তারা জীবন রক্ষাকারী অতি জরুরি মানবিক সহায়তায় বেশি মনোযোগ দিতে চায়।

তবে ইবোলা মোকাবিলায় সরাসরি তিন কোটি ৭৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।