ইইউ-ইউক্রেন ড্রোন চুক্তির পরই রাশিয়ার হামলা
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইউক্রেনের নতুন ড্রোন চুক্তির ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শহরের একাধিক এলাকায় আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ভোরে টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, শহরের স্বিয়াতোশিনস্কি জেলায় একটি গুদামঘর এবং দারনিতস্কি জেলায় একটি বাণিজ্যিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এসব স্থানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সেবাকর্মীরা কাজ করছেন। তিনি আরও জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দারনিতসিয়া এলাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পে পড়ে সেখানেও আগুন লেগেছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লায়েন কিয়েভ সফরে গিয়ে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি নতুন ‘ড্রোন চুক্তি’ ঘোষণা করেন। এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের শিল্প সক্ষমতাকে একত্রিত করে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দ্রুত ড্রোন উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফন ডার লায়েন বলেন, ‘আমাদের শক্তিগুলোকে একত্রিত করতে হবে।’ তার ভাষায়, এই চুক্তি ‘ইউক্রেনের উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং ইউরোপের বৃহৎ শিল্প সক্ষমতার সমন্বয় ঘটাবে।’ তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী শিল্প অবকাঠামো এবং নিরাপদ উৎপাদন কেন্দ্রের সুবিধা দিতে পারবে। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাচ্ছে রাশিয়া। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে। গত বুধবার ইউক্রেনের আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়ার হামলায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।
দিবালোকে চালানো এসব হামলায় শিল্পকারখানা ও স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানায় রাশিয়া। হামলার শিকার হয় কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী ওডেসা এবং রাশিয়া সীমান্তসংলগ্ন উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সুমি।
