মাঝরাতে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ সদর দপ্তরে সেনাবাহিনীর হানা

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি মামলা ঘিরে নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রধান দুর্নীতি দমন প্রসিকিউটরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা।

গত ৮ জুলাই তার বাড়িতে পুলিশি অভিযানে জব্দ করা হয় ৭৪ কেজি সোনার বার এবং প্রায় দুই কোটি মার্কিন ডলার নগদ অর্থ। এই ঘটনায় দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে তীব্র ক্ষমতার লড়াই প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

অভিযুক্ত ফেব্রি আদ্রিয়ানশাহ দেশটির বিশেষ অপরাধ সংক্রান্ত সাবেক উপ-অ্যাটর্নি-জেনারেল। একটি অভিজাত গলফ কোর্সের পাশে তার সুরক্ষিত বাসভবন থেকে এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ উদ্ধার করে পুলিশ।

ফেব্রি আদ্রিয়ানশাহ বাড়িটি নিজের বলে স্বীকার করলেও জব্দ করা সোনা ও নগদ অর্থের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ সরাসরি অভিযানে নামায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সোনা ও অর্থ জব্দের পর পুলিশ ভেবেছিল ফেব্রি আদ্রিয়ানশাহর বিরুদ্ধে নির্বিঘ্নে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। কিন্তু তাদের সেই ধারণা দ্রুত বদলে যায়।

ঘটনার পরদিন রাত ৩টার দিকে ফেব্রিকে সমর্থন জানানো সশস্ত্র সেনাসদস্যদের কয়েকটি দল পুলিশ হেডকোয়ার্টারের বাইরে অবস্থান নেয়। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তারা পরে চলে গেলেও এই মুখোমুখি অবস্থান নড়েচড়ে বসায় প্রশাসনকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত মাঠে নামেন প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতো। উভয় পক্ষকে ডেকে একটি সমঝোতার পথ বের করা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, ফেব্রি আদ্রিয়ানশাহকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার তদন্ত সাধারণ পুলিশের বদলে নিজ সংস্থাই করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। ইন্দোনেশিয়ায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যকার বিরোধের শেকড় অনেক গভীরে। ১৯৬৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সুহার্তোর দীর্ঘ একনায়কতন্ত্রের আমলে পুলিশ ছিল সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

সুহার্তোর পতনের পর গণতান্ত্রিক সংস্কারের অংশ হিসেবে পুলিশ স্বাধীনতা লাভ করে এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বী বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তখন থেকেই বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে প্রকাশ্য ও গোপন প্রতিযোগিতা চলে আসছে।

সাধারণত দুই বাহিনী সরাসরি একে অপরের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে না। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পুরোনো দ্বন্দ্ব নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতো জাভানীয় রাজাদের কায়দায় শাসনকাজ পরিচালনা করছেন। তার প্রশাসনের শীর্ষ দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যকার ক্ষমতার লড়াইয়ের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও পুলিশের নেপথ্যে রয়েছে সংসদের নিম্নকক্ষের দলীয় নেতার সমর্থন। প্রেসিডেন্ট এ দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের কোন্দল থামাতে না পারলে এমন সংঘাত ফের দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।