ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প : নিহত বেড়ে ৩৮
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৮ জনে পৌঁছেছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তর নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের কর্মকর্তরা বলেছেন, অনুসন্ধান তৎপরতার বিস্তার যত বাড়ছে, বিভিন্ন বাড়িঘর ও ভবনের ধ্বংস্তূপের তলায় চাপা পড়া মরদেহের সংখ্যাও বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ভয়াবহ এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাগরের তলদেশে এবং ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর কয়েকটি ‘আফটার শক’ বা পরাঘাত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালী আফটার শকের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার শহরগুলোতে অনেক বাড়িঘর আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও পোস্ট হয়েছে। সেসবে ভবন ও বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি লোকজনকে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।
পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের সিক্কা শহরের বাসিন্দা ইয়োহান্না এমবু এএফপিকে বলেছেন, আমাদের শহরে অনেকগুলো বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। ভূমিকম্পের সময় লোকজন খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। আমি নিজের চোখের সামনে বন্দর এলাকার একটি ভবন ভেঙে পড়তে দেখেছি। প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘুমের মধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
প্রাথমিক হিসাবে ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাংগারাই প্রদেশকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়। সতর্কতা জারির পর প্রায় দুই হাজার মানুষ নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে যান। মোটরসাইকেলে করে অনেক মানুষকে উপকূল থেকে ভেতরের দিকে চলে যেতে দেখা যায়। তবে ভূমিকম্পের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সমুদ্রপৃষ্ঠের উল্লেখযোগ্য উচ্চতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তালিবুরা গ্রামের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো জানান, প্রবল কম্পনে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর তিনি দ্রুত সন্তানের ঘরে যান। আতঙ্কে অনেক মানুষ পাহাড়ের দিকে চলে যান।
তিনি বলেন, কিছু মানুষ রাস্তার পাশে অবস্থান করছিলেন, কারণ সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে সরে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পানি নিচু অবস্থায় থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। পরে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও গিয়ে দেখেন, সেখানকার মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নাগেকেও শহরের এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেছেন, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি মার্কেটে অবস্থান করছিলেন। এএফপিকে তিনি বলেন, কম্পন খুব শক্তিশালী ছিল। মানুষ আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে চিৎকার করছিল, এদিক-সেদিকে ছোটাছুটি করছিল। আমার সৌভাগ্য যে (ভূমিকম্পের সময়) আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম।
দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া আসলে ১ হাজার ৭০০ দ্বীপের সমষ্টি। ভৌগোলিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের ‘আগ্নেয় মেখলা’ বা রিং অব ফায়ার অঞ্চলের ওপর অবস্থানের কারণে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে ভূমিকম্প প্রায় নিয়মিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পটি হয়েছিল ২০০৪ সালে। ৯ দশমিক ১ মাত্রার সেই ভূমিকম্প ও তার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছিল ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের।
