মানবসৃষ্ট মহামারির শঙ্কা, গবেষণাগার থেকেই ছড়াতে পারে প্রাণঘাতী ভাইরাস
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত উন্নতি, জৈবপ্রযুক্তির বৈপ্লবিক অগ্রগতি, উচ্চণ্ডঝুঁকিপূর্ণ গবেষণা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভঙ্গুর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা; সবকিছু মিলিয়ে মানবসৃষ্ট নতুন ও প্রাণঘাতী কোনো ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। দুর্ঘটনাবশত গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়ে বা ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি এই হুমকি বিশ্বকে এক বড় ধরনের বিপদের মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কোভিড মোকাবিলা সমন্বয়কারী আশিষ ঝা বলেন, কোনো রোগের চিকিৎসা বা জিন থেরাপি তৈরির প্রচেষ্টা থেকে একটি ভাইরাসকে ক্ষতিকারক কিছুতে রূপান্তর করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়।
তার মতে, কোনো রাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে জৈবাস্ত্র ব্যবহার করার চেয়েও গবেষণাগার থেকে দুর্ঘটনাবশত প্রাণঘাতী কোনো ভাইরাস ছড়ানোর শঙ্কা এখন সবচেয়ে বেশি এবং বিজ্ঞান ও এআইয়ের অগ্রগতির কারণে এই ঝুঁকি কমেনি বরং বেড়েছে। সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এআই ব্যবহার করে নতুন কৃত্রিম ভাইরাস তৈরি করেছেন, যা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সক্ষম। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য এটি বড় সাফল্য হলেও এ ধরনের প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বার্ষিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনেও সতর্ক করা হয়েছে যে, ন্যানোটেকনোলজি ও জিনোম এডিটিংয়ের মতো বিষয়ের অগ্রগতি নতুন জৈব ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এআই এবং উন্নত জৈবপ্রযুক্তি কেবল ঝুঁকিই বাড়ায় না, নতুন ধরনের মহামারি প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও তা মোকাবিলার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সুযোগ ও সুরক্ষাকবচ তৈরি করছে। গুগল ডিপমাইন্ড এরইমধ্যে তাদের বায়োরিসিলিয়েন্স প্রোগ্রাম ঘোষণা করেছে, যা জৈব হুমকি প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় সাহায্য করবে।
