পাকিস্তানের সঙ্গে বৈরিতার মধ্যেই লাদাখে সিন্ধু নদে বাঁধ দিল ভারত
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক বৈরিতা এবং পানিবণ্টন চুক্তিতে চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই লাদাখে সিন্ধু নদের ওপর বাঁধ তৈরি করেছে। লাদাখের বৃহত্তম শহর লেহ-এর উপসাই এলাকায় এ বাঁধ তৈরি হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
নতুন এই বাঁধটি তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক পাথরের বোল্ডার বা চাঁই দিয়ে। কোনো সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। বাঁধের প্রভাবে লাদাখে সিন্ধু নদের পানির স্তরের উচ্চতা প্রায় ১০ ফুট বেড়েছে। এই বাঁধের কারণে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে লাদাখের কৃষকরা। নদীর পানির স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন এমন অনেক নতুন জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, পানির অভাবে আগে যগুলোতে চাষাবাদ করা সম্ভব হতো না। বস্তুত, বছরের পর বছর ধরে লাদাখের ?কৃষকরা ফসল ফলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতেন; ওই অঞ্চলে একের পর এক গিরিখাতের কারণে সিন্ধু নদের পানির প্রবাহ বা স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে নিচু ছিল। বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে এই স্তর এত নেমে যেত যে অনেক সময় পাম্প মেশিন দিয়েও পানি তোলা যেতো না। তার ওপর সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তির কারণে এ নদীর পানি ব্যবহারে ভারতের সীমাবদ্ধতা ছিল। ফলে বছরের পর বছর ধরে জলসংকটের কারণে লাদাখের হাজার হাজার বিঘা কৃষিজমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। নতুন এই বাঁধের কল্যাণে প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি পানি সঞ্চয় করা সম্ভব হয়েছে এবং ইগু ফে খালসহ অন্যান্য খালের মাধ্যমে সেই পানি শুকনো জমিগুলো পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগামে বৈসরণ উপত্যকায় সন্ত্রাসী হামলা চালায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই তৈয়বার শাখা সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)। সেই হামলায় ২৫ জন পর্যটক নিহত হয়েছিলেন। ভয়াবহ সেই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত 'সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি' স্থগিত করে। এখনও স্থগিতাবস্থাতেই আছে সেই চুক্তি। এই চুক্তির স্থগিতাবস্থা নিয়ে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে গত এক বছর ধরে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে।
