মক্কা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে : খাজা আসিফ
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পবিত্র নগরী মক্কায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি' বাস্তবায়নের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
গত বুধবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের 'আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ' অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। খাজা আসিফ জানান, মক্কা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের কিছু নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে এবং ইসলামাবাদ ওই চুক্তির শর্ত মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সামরিক কৌশল বা চুক্তির বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনা করা হবে না বলেও জানান তিনি। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, 'মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র স্থানগুলো রক্ষার জন্য পাকিস্তানের কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই এবং মক্কা চুক্তি না থাকলেও এগুলো রক্ষা করা একটি কর্তব্য।'
হুথিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, 'যদি মক্কা আক্রান্ত হয়, তবে একে রক্ষা করার জন্য কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। পবিত্র স্থানগুলো আক্রান্ত হলে পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালনে পিছপা হবে না।' এর আগে ইয়েমেনবিষয়ক সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি হুথি ড্রোন মক্কার দক্ষিণে আকাশে শনাক্ত করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, ড্রোনটি মক্কার নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়। তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর সৌদি অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুথিরা। গত বুধবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে বলেন, 'মক্কায় হামলার দাবি একটি ঘৃণ্য মিথ্যা। যা এরআগেও দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এখন এমন দাবি আর কাউকে ভুল বোঝায় না। আমাদের অভিযানগুলোর লক্ষ্য তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটি।'
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি মক্কার কাছে হামলার চেষ্টার নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সংলাপ ও কূটনীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। হুথি হামলা নিয়ে সৌদি আরবের বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান বলে জানান খাজা আসিফ।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সৌদি আরবের উদ্বেগের বিষয়গুলো তেহরানের কাছে জানানো হয়েছে এবং আঞ্চলিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ইসলামাবাদ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, রাষ্ট্র হিসেবে ইরান এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হয়। তিনি বলেন, ইরান এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ফলে নতুন কোনো সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হওয়া তেহরানের জন্যও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
