ফিলিস্তিনের গাজায় দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে ১৮ লাখের বেশি মানুষ
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর অত্যাচারে গাজায় মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উপত্যকার অধিকাংশ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন এবং দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগে প্রশ্ন আসে এই সংকটকে আর কতদিন উপেক্ষিত হবে?
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ১৮ লাখের বেশি মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখোমুখি। এ সংখ্যাটি গাজার মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশেরও বেশি। আনুমানিক ৩ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ এখন আইপিসি ফেজ-৫ (Integrated Food Security Phase Classification-IPC) এ রয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তার এই সর্বোচ্চ সংকটপূর্ণ পর্যায়ে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা শুধু সম্ভাবনা নয়, অনেকের জন্য তা বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। ডব্লিওএফপি (ডঋচ) চারটি দেশকে 'হাঙ্গার হটস্পট' হিসেবে চিহ্নিত করছে। সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইয়েমেনের সঙ্গে এই গ্রুপ আছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। (Hunger Hotspots) বলতে এমন দেশ বা অঞ্চলকে বোঝানো হয়, যেখানে ক্ষুধা ও খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা থাকে এবং দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। মাসের পর মাস ধরে চলা সংঘাত, মানবিক সহায়তার ওপর কঠোর অবরোধ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংস গাজাকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা গাজা উপত্যকাকে 'বসবাসের অযোগ্য' বলে বর্ণনা করছে। তথ্য মতে, গাজায় ইসরায়েলের ফেলা শত শত টন বোমার বারুদে ৯৭ শতাংশ জমি অনুর্বর কৃষিকাজের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের ২৪ জুন পর্যন্ত জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার UNOSAT-এর সঙ্গে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা FAO-এর যৌথভাবে পরিচালিত এক মূল্যায়নে এ তথ্য উঠে এসেছে। এছাড়া অবশিষ্ট কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে, মাছ ধরা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আর গাজার মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বেকারিগুলো জ্বালানি সংকট ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে দত টাইমস অব গাজা।
