ছাত্র বিক্ষোভের মুখে মেয়াদ শেষের আগেই সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ এবং ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তার এই পদত্যাগের ফলে দেশটিতে নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ তৈরি হয়েছে।রাজধানী বেলগ্রেডে অবস্থিত প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে আলেকজান্ডার ভুচিচ বলেছেন, তার ৯ বছরের শাসনামলে তিনি দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছেন। গত জুন মাসেই পদত্যাগের ইচ্ছার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। এখন আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে নিজের দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ভুচিচ। কারণ সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। ক্ষমতায় থাকাকালে রুশপন্থী এই জনতুষ্টিবাদী নেতার সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছিল, যা ঘিরে সার্ভিয়ার জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ২০২৪ সালে নোভী সাদ রেল স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা তার প্রথম সরকারের বিরুদ্ধে জন্ম নেওয়া ওই ক্ষোভকে উস্কে দিয়েছিল। এরপর ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে শ্রমিক ও কৃষক পর্যন্ত সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের অংশগ্রহণে শুরু হয় বিক্ষোভ। সংস্কারের পর নোভী সাদ রেলস্টেশন সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে ছাদ ধসে হতাহতের যে ঘটনাটি ঘটে, সেটিকেই ভুচিচের রাজনৈতিক দল প্রগ্রেসিভ পার্টির এক দশকের বেশি সময়ের শাসনামলের প্রকৃতচিত্র বলে মনে করেন বিরোধীরা। দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর জনরোষ কমিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে ভুচিচ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের একের পর এক কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুরো গ্রীষ্মকালজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। আন্দোলন দমনে একপর্যায়ে সরকার পুলিশ মোতায়েন করলে পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে। ওই সময় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হামলা-নির্যাতনসহ নিপীড়নের নানান অভিযোগ উঠতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা ভুচিচ সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন।
