ফ্লাইদুবাই হামলায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা পেলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে পাইলটের ওপর হামলার ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে দেশটিকে কঠোরভাবে আঘাত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি'র। বুধবারের ওই নাটকীয় ঘটনায় যাত্রীদের চেষ্টায় বিধ্বস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায় বিমানটি। পরে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। বিমানের অধিকাংশ যাত্রী ছিলেন ইসরাইলি নাগরিক। একটি বিকল্প ফ্লাইটে তাদের ইসরাইলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পৌঁছানোর পর তাদের বীরের মতো স্বাগত জানানো হয়। ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, ইতোমধ্যে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি 'ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে' দীক্ষিত হয়ে কাজটি করেছেন।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি যা শুনছি, তার ভিত্তিতে বলব—হ্যাঁ। তবে আমরা এখনও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। ইরানকে দোষী পাওয়া গেলে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওদের অত্যন্ত কড়াভাবে আঘাত করা হবে, চিন্তা করবেন হবে না।

ট্রাম্পের এ হুঁশিয়ারির সঙ্গে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে।

অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় ওয়াশিংটন সম্প্রতি সৌদি আরব ও কাতারে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী ও এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজের বহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সেখানে আগে থেকেই অবস্থানরত আরও দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর বহরের সঙ্গে এটি যুক্ত হতে পারে।

ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে নানা জল্পনার মধ্যে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছে ইউএই ও সৌদি আরব।

সৌদি আরব জানিয়েছে, সহকারী পাইলটকে বৃহস্পতিবার একটি আমিরাতের একটি নিরাপত্তা দলের সঙ্গে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, সহকারী পাইলট বিমানের ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার পর বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে যাত্রীরা ককপিটে গিয়ে হস্তক্ষেপ করেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে।

ফক্স নিউজের 'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস' অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা জানি, সে ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত ছিলো । তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী বিমানকর্মীদের উদ্দেশে 'আমাকে মেরে ফেলো, আমাকে মেরে ফেলো' বলছিলেন। তিনি বলেন, এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, সে আত্মঘাতী ছিল।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান কৌঁসুলি তদন্তকারীরা ঘটনাটিতে 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্য' ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবেন বলে জানানোর পর নেতানিয়াহু এসব মন্তব্য করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, তদন্তের নেতৃত্ব দেবে ইউএই, তবে এতে ইসরাইলও অংশ নেবে। তিনি জানান, সহকারী পাইলট একজন ওমানি নাগরিক। কীভাবে সে ইসরাইলগামী ফ্লাইটে কাজ করার অনুমোদন পেয়েছিল, তা ইসরাইল খতিয়ে দেখবে। ফক্স নিউজকে নেতানিয়াহু আরও বলেন, ইসরাইলের নিয়ম অনুযায়ী যেসব দেশের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেসব দেশের নাগরিকদের পাইলট হিসেবে ইসরাইলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে ওই ব্যক্তি কীভাবে অনুমোদন পেলেন, সেটাই তদন্তের বিষয়।