ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন ভাস্কর্যের নাম 'অরেঞ্জ প্লেগ'

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে প্রদর্শিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত নগ্ন ভাস্কর্য। 'অরেঞ্জ প্লেগ' (কমলা মহামারি) নামের এই ব্যঙ্গাত্মক ভাস্কর্যটি 'কিং অব ইনজাস্টিস' (অন্যায়ের রাজা) নামেও পরিচিতি পেয়েছে।

ড্যানিশ শিল্পী জেন্স গালশিয়টের তৈরি প্রায় ২ দশমিক ৬ মিটার বা ৮ ফুট উচ্চতা ও ২৩ ক্যারেট সোনার প্রলেপ দেওয়া ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় একটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও ছোট মানুষের কাঁধে বসে থাকতে দেখা যায়। ট্রাম্পের এক হাতে রয়েছে বড় আকারের গলফ ক্লাব, অন্য হাতে ন্যায়বিচারের দাঁড়িপাল্লা। ভাস্কর্যটির বেদিতে লেখা রয়েছে— 'আমি একজন মানুষের পিঠের ওপর বসে আছি। আমার ভারে সে ডুবে যাচ্ছে। তাকে সাহায্য করার জন্য আমি যেকোনো কিছু করব। শুধু তার পিঠ থেকে নেমে আসা ছাড়া'।

শিল্পীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রতীকী দৃশ্য ক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রভাব ও সাধারণ মানুষের ওপর তার চাপকে তুলে ধরেছে। গালশিয়ট জানিয়েছেন, ভাস্কর্যটির ভাবনায় রয়েছে ড্যানিস কিংবদন্তি লেখক হান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত রূপকথা 'দ্য এম্পেরর'স নিউ ক্লোদস' বা 'সম্রাটের নতুন পোশাক'-এর প্রভাব। সেই গল্পে ক্ষমতাবান এক সম্রাট বাস্তবে নগ্ন থাকা সত্ত্বেও নিজেকে পোশাক পরিহিত মনে করেন। তার মতে, ভাস্কর্যটি মূলত ট্রাম্পের জলবায়ু নীতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর তার সমালোচনামূলক অবস্থানের প্রতীক। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নীতির প্রভাব নিয়ে প্রকাশ্য বিতর্ক প্রয়োজন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ড্যানিশ সদস্য পের ক্লাউসেনের আমন্ত্রণে ভাস্কর্যটি সেখানে প্রদর্শনের সুযোগ পায়। এটি পার্লামেন্ট ভবনের দুটি ভবনের সংযোগস্থলের ব্যস্ত এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে এবং গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রদর্শিত হওয়ার কথা। এর আগে 'দ্য অরেঞ্জ প্লেগ' কোপেনহেগেনে 'হ্যান্ডস অব গ্রিনল্যান্ড' বিক্ষোভ এবং ২০২৫ সালের ব্রাজিলের বেলেমে অনুষ্ঠিত কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনেও প্রদর্শিত হয়েছিল। স্ট্রাসবুর্গের প্রদর্শনী শেষে আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য কম৩১ জলবায়ু সম্মেলনেও এটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে এখন পর্যন্ত এই ভাস্কর্য নিয়ে হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।