প্রথম নিজস্ব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাল দক্ষিণ কোরিয়া

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের তৈরি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা চালিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ব্লু হাউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং দেশের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকলের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেছেন। অস্ত্রটি এখনও গবেষণা ও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। এ পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি, গতিপথ পরিবর্তন এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। পাশাপাশি, অস্ত্রটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হয়েছে। হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল প্রথমে রকেট বুস্টার বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে পৌঁছায়। এরপর এটি শব্দের গতির অন্তত পাঁচগুণ গতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুটে যায়।

মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে বলে এ ধরনের অস্ত্র শনাক্ত করা ও প্রতিহত করা খুবই কঠিন। পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে এমন উপাদানের কার্যকারিতা এবং ক্ষেপণাস্ত্রটির দিকনির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। পাশাপাশি, নিচু দিয়ে উড়ে চলার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটি দিক পরিবর্তন করতে পারে কি না, তা-ও পরীক্ষা করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, পরীক্ষার সময় মূল বাহক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকলটি নিচের দিকে নেমে আসে। এরপর এটি সামনে এগোনোর সময় ওপর-নিচে ও ডানে-বাঁয়ে দিক পরিবর্তন করে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে।

সিউলভিত্তিক কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর মিলিটারি অ্যাফেয়ার্সের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং সুং-পিয়ো বলেন, হাইপারসনিক অস্ত্রের প্রযুক্তি উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়া উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এবারের সফল পরীক্ষা সেই প্রচেষ্টারই ফল বলে মনে করেন তিনি। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে উত্তর কোরিয়াও হাইপারসনিক অস্ত্রের পরীক্ষা বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই অস্ত্রের প্রযুক্তি উন্নয়নে রাশিয়া সহায়তা করছে। রাশিয়া ২০২৪ সাল থেকে যুদ্ধে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এর আগে, গত শনিবার এআই প্রযুক্তির সহায়তায় একটি মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের কথা জানায় উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি নিচু দিয়ে উড়তে পারে এবং প্রয়োজনে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এ কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিবিধি অনুসরণ করা দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জন্য কঠিন হয়েছে বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।

তবে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের হাতে থাকা প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে উত্তর কোরিয়ার ওই ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করা সম্ভব। ফলে, এ ধরনের অস্ত্রের মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ব্লু হাউজ জানিয়েছে, নতুন হাইপারসনিক অস্ত্র কোরীয় উপদ্বীপের সামরিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছে দেশটি।