মার্কিন মেজরের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার, কে এই নিদাল হাসান

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

প্রতিরক্ষা বিভাগের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডে নিরস্ত্র ১৩ জন মার্কিন সেনাকে গুলি করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি সরাসরি সম্প্রচার (লাইভস্ট্রিম) করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, গত প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এটিই হবে প্রথম প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের নিয়ে কাজ করা আইনজীবী জন মিলস বলেছেন, এটি সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তটি 'আধুনিক যুগে নজিরবিহীন' এবং এর 'আইনি বৈধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে'। হেগসেথ বলেন, 'আমরা নিশ্চিত করব যেন মানুষ এটি দেখতে পারে এবং এটি যেন সবার জন্য উন্মুক্ত হয়। মানুষের বোঝা উচিত, এ ধরনের কাজের জন্য কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হয়।'

পেন্টাগন এই সপ্তাহের শুরুর দিকে ঘোষণা করেছিল, তারা হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেবে। এটি হবে ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে কোনো সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। রক্ষণশীল টিভি চ্যানেল রিয়েল আমেরিকাস ভয়েসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হেগসেথ বলেন, হাসানের জন্য 'সেনাদের একটি ফায়ারিং স্কোয়াড থাকবে। যেমনটা হওয়া উচিত।' হাসান কোনো শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কি না বা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, 'এতে কিছু যায় আসে না। ৩ ডিসেম্বর আমরা তাকে দেখব।'

পেন্টাগনের এক মুখপাত্র গত সোমবার জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সুপারিশ অনুমোদন করেছেন। সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি ট্রাম্প সমর্থন করেন কি না, তা জানতে বিবিসি হোয়াইট হাউসের কাছে প্রশ্ন রেখেছে। গত বছর ১৭টি দেশে ২ হাজার ৭০০-এরও বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও মাত্র দুটি দেশে তা প্রকাশ্যে করা হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানে প্রকাশ্যে ১১টি এবং আফগানিস্তানে ছয়টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটেছে।

নিদাল হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুডে গুলি করে ১৩ জন সেনাকে হত্যা এবং ৩২ জনকে আহত করেন তিনি। সে সময় ওই সেনারা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশের গুলিতে আহত হন নিদাল এবং পরবর্তী সময়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বিচারের সময় আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে নিদাল হাসান বলেন, আফগানিস্তানসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মার্কিন সেনাবাহিনীর অভিযানের প্রতিবাদে ওই সেনাদের হত্যা করেন তিনি।

২০১৩ সালের আগস্টে ১৩ জনকে হত্যা এবং ৩২ জনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আদালত মেজর নিদাল হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেন।