স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৬৮

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পেনে দুটি উচ্চগতির ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী। প্রাথমিক তদন্তে রেল চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটার ব্যবস্থায় ত্রুটি এবং পরবর্তী সময়ে মানুষের নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। স্থানীয় সময় গত বুধবার টলেডো প্রদেশের উর্দা শহরের কাছে মাদ্রিদ-সেভিল উচ্চগতির রেলপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি চলন্ত ট্রেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুই ট্রেনের বেশ কয়েকটি বগি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, 'আজ স্পেন শোকাহত। পুরো স্পেন শোকাহত।' নিহতদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় রেল কোম্পানি রেনফের ট্রেনের ২৪ জন এবং বেসরকারি কোম্পানি ইরিওর ট্রেনের ৪৪ জন যাত্রী রয়েছেন। ইরিওর ট্রেনটিতে ১৫১ জন এবং রেনফের ট্রেনে ৩৯৩ জন যাত্রী ছিলেন। স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার দিন ট্রেন চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত এলজেডবি ব্যবস্থায় কম্পিউটারজনিত সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার রেলপথে নিরাপত্তাব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে ওই এলাকার ট্রেনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিওর একটি ট্রেনও রেললাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় এরপর ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নেয় রাষ্ট্রীয় রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা এডিআইএফের কর্মীরা। অর্থাৎ, কম্পিউটারনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে তখন মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছিল ট্রেন চলাচল। তদন্তের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, দক্ষিণমুখী রেনফের ট্রেনটির সামনে লাল সংকেত ছিল। ওই সংকেতের অর্থ, ট্রেনটির সামনে এগোনোর অনুমতি নেই। তা সত্ত্বেও একজন ট্রেন নিয়ন্ত্রকের নির্দেশে ট্রেনটিকে চলতে দেওয়া হয়।