মক্কায় হুথি-ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি সৌদির, অস্বীকার হুথিদের

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হুথিদের বিরুদ্ধে ফের মক্কা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ এনেছে সৌদি আরব। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে সৌদি-ইয়েমেনি জোট জানিয়েছে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে জোটের সেনারা। তবে ইয়েমেনি হুথি বিদ্রোহীরা এ অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখান করে সৌদির বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের পাল্টা অভিযোগ এনেছে।

গতকাল (শুক্রবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সৌদি-ইয়েমেনি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি লিখেছেন, "হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের নিক্ষেপ করা একটি ড্রোন মক্কা অঞ্চলে ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়েছে।"

তিনি এই পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে সৌদি-ইয়েমেনি জোটের এ দাবিকে 'নির্জলা ও জঘন্য মিথ্যাচার' উল্লেখ করে হুথি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারি বলেছেন, "আজ (শুক্রবার) সৌদি ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি। মক্কার আকাশসীমায় ড্রোন প্রতিহত করার বিষয়ে সৌদি শত্রুপক্ষের দাবিটি একটি বিশাল এবং জঘন্য মিথ্যা।"

এর আগে শুক্রবার আল-মালকি জানিয়েছিলেন যে, জোটের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুথিদের একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন তিনি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক শত্রুতা ও সংঘাত প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে; উভয় পক্ষই সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পরস্পরকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান ও হামলার কথা জানিয়েছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেছিলেন, হুথি যোদ্ধারা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে—যার মধ্যে তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দর রয়েছে—ছয়টি হামলা চালিয়েছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে হুথি বাহিনীর দ্বন্দ্বের সূত্রপাত ২০১৫ সাল থেকে।

সে বছর হুথি যোদ্ধারা পুরো উত্তর ইয়েমেনে ও রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদারাব্বুহ মনসুর হাদি সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি পালিয়ে যান। আবদারাব্বুহ মনসুর হাদিকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী। বর্তমানে রাজধানী সানা ও উত্তর ইয়েমেন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে আছে আর দক্ষিণ ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার।

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল হুথিরা। তারপর প্রায় চার বছর স্থিতিশীল থাকলেও গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলার পর ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে দু'পক্ষের মধ্যে। বর্তমানে সেই উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে।

সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের সামরিক, ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা শুরু করেছে হুথি বিদ্রোহীরা এবং সৌদির বেশ ক্ষয়ক্ষতি সাধনেও সক্ষম হয়েছে। লোহিত সাগরের উপকূল এবং এ সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি গত মাসে দখল করেছে হুথিরা। এর ফলে বিদেশে সৌদির তেল রপ্তানি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।