ব্যবসায় যেসব কাজ বর্জনীয়
শিবলী নোমানী
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যবসা-বাণিজ্য নীতি-নৈতিকতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়া খুবই অপরিহার্য। কেননা, যে ব্যবসা নীতি-নৈতিকতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয় না কিংবা যে ব্যবসায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে নীতি-নৈতিকতা রক্ষা করে না, তার উপার্জিত সম্পদে হারাম ও বাতিল মালের অনুপ্রবেশের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ হারাম উপার্জনের ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) অত্যন্ত কঠোর ভাষায় অনাকাঙ্ক্ষিত অপরিহার্য পরিণামের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সেই দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যাকে তৃপ্ত করা হয়েছে হারাম দ্বারা।’ (মুসনাদে আবি ইয়ালা : ৭৮)। তাই ব্যবসা-বাণিজ্যে লক্ষণীয় কিছু বিষয় রয়েছে। যেমন-
পণ্য বৈধ হওয়া : ক্রেতা-বিক্রেতা কেনাবেচার সময় অবশ্যই তাদের বিক্রিতব্য পণ্য বৈধ হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য রাখবেন। যেমন- শুয়োর, মদ ইত্যাদি হারাম বস্তুর কেনাবেচা করা থেকে বিরত থাকা। এককথায়- হারাম বস্তু বেচাকেনা করা নৈতিকতা বহির্ভূত ব্যবসা। হারাম কাজও বটে। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি সম্পূর্ণ নাজায়েজ।
দালালি কিংবা দরদামের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ভঙ্গ না রক্ষা করা : পণ্য বেচাকেনার ক্ষেত্রে দালালি না করা। এখানে দালালি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, দালালের নিজের পণ্য কেনার ইচ্ছে নেই, কিন্তু পণ্যের দামাদামি করে অনেক বেশি মূল্যে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। এমনটি করা হয়ে থাকে এ কারণে, ক্রেতা দালালের দাম শুনে ধোঁকায় পড়ে যাবে এবং আগের চেয়ে আরও বেশি মূল্য দিয়ে কিনে নেবে। এ পদ্ধতি অবলম্বনের ফলে প্রকৃত ক্রেতা বা বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তৃতীয় একটি পক্ষ লাভবান হয়ে থাকে। হাদিস শরিফে এ ধরনের নীতিহীন কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক মুসলমান যেন অপর মুসলমানের ওপর গিয়ে পণ্যের দাম না বলে এবং বিয়ের আলোচনা চলা অবস্থায় প্রস্তাব না দেয়।’ (বোখারি : ২১৪০)।
সন্দেহপূর্ণ বিষয় থেকে দূরে থাকা : ব্যবসা-বাণিজ্যে সন্দেহপূর্ণ লেনদেন থেকে বিরত থাকা চাই। এর নানা ধরন হতে পারে। যেমন- কোনো বৈধ পণ্য এমন কোনো ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা, যে ব্যক্তির ব্যাপারে পণ্যটির অপব্যবহারের আশংকা রয়েছে। এ জাতীয় বিভিন্ন ধরনের সন্দেহপূর্ণ লেনদেন থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে হাদিস শরিফে সতর্ক করা হয়েছে। (বোখারি : ১৪৮২)।
হারাম লেনদেন থেকে বিরত থাকা : অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন পর্যায়ে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় সুদি লেনদেনে জড়িয়ে পড়ি। আর সুদ একটি সুস্পষ্ট হারাম কাজ। অনেক গোনাহের কাজ এমন আছে, যার শাস্তি আল্লাহতায়ালা পরকালে দিয়ে থাকেন। কিন্তু সুদের শাস্তির বিষয়টি ভিন্ন। সুদি লেনদেনর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আল্লাহতায়ালা দুনিয়াতে শাস্তি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরকালেও তাদের জন্য কঠিন শাস্তি নির্ধারণ করে রেখেছেন।
যে ব্যবসায় সুদের সংমিশ্রণ এসে পড়ে, সে ব্যবসা বরকতশূন্য হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, আল্লাহতায়ালা সুদি কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। যার প্রতিপক্ষ আল্লাহ হয়ে যান, সে কীভাবে সফল হবে? মোটকথা, সুদ একটি গর্হিত কাজ। দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের স্বার্থে প্রতিটি মুসলমানের উচিত, এর থেকে বিরক্ত থাকা। আমাদের অজান্তে দৈনন্দিন জীবনে সুদের অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে, এমন কয়েকটি কারবার তুলে ধরা হলো। যেমন-
১. গবাদিপশু প্রতিপালনের জন্য বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।
২. জমি বন্ধক দেওয়ার বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।
৩. ইসলামি ব্যাংক কিংবা বিভিন্ন সমবায় সমিতি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে যথাযথ শরিয়া স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ না করা।
সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন। আর দান-সদকাকে বৃদ্ধি করেন।’ (সুরা বাকারা : ২৭৬)। সুদের সঙ্গে জড়িত সবাইকে নবীজি (সা.) অভিশাপ করেছেন। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, ‘যে সুদ গ্রহণ করে, যে সুদ প্রদান করে, যে সাক্ষী থাকে এবং যে ব্যক্তি সুদের হিসাব-নিকাশ বা সুদের চুক্তিপত্র ইত্যাদি লিখে দেয়, সবার প্রতি রাসুল (সা.) অভিশাপ করেছেন।’ (তিরমিজি : ১২০৬)।
