উত্তম জামিনদার

নিয়ামুল ইসলাম

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বনি ইসরাইলের একজন অন্য একজনকে বলল, ‘ভাই! আমার এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার চাই।’ ঋণদাতা বলল, ‘যদি তুমি সাক্ষী হিসেবে কয়েকজন লোক নিয়ে আসতে পারো, তাহলে আমি তোমাকে ধার দিতে পারি।’ গ্রহীতা বলল, ‘আল্লাহতায়ালাই আমার জন্য সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট।’ ঋণদাতা আবার বলল, ‘তাহলে তুমি একজন জামিনদার উপস্থিত করো।’ গ্রহীতা এবারও বলল, ‘আল্লাহতায়ালাই আমার জন্য জামিনদার হিসেবে যথেষ্ট।’ এ কথা শুনে ঋণদাতা বলল, ‘হ্যাঁ ভাই! তুমি ঠিকই বলেছ।’ এরপর সে নির্ধারিত সময়ে পরিশোধের শর্তে লোকটাকে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার দিলো। সে স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে সমুদ্রযাত্রা করল। তার ব্যবসায়িক প্রয়োজন পূর্ণ করল।

এদিকে ঋণ পরিশোধের সময় ঘনিয়ে এলো। লোকটা যানবাহন খোঁজ করতে লাগল; যাতে সে নির্ধারিত সময়ে ঋণদাতার কাছে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু অনেক খুঁজেও কোথাও কোনো যানবাহন পেল না। তখন সে এক টুকরো কাঠ নিয়ে তা ছিদ্র করল। ঋণদাতার নামে একখানা চিঠি ও এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা তাতে রেখে তা বন্ধ করে দিলো। এরপর কাঠের খণ্ডটি সমুদ্রতীরে নিয়ে গিয়ে বলল, ‘হে আল্লাহ, হে পরওয়ারদেগার! তুমি তো জানো, আমি তোমার অমুক বান্দার কাছে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার চাইলে সে আমাকে জামিনদার আনতে বলল। আমি বলেছিলাম, আল্লাহতায়ালাই আমার জন্য জামিনদার হিসেবে যথেষ্ট। এরপর সে আমাকে কয়েকজন সাক্ষী আনতে বলল, আমি তাকে বলেছিলাম, আল্লাহতায়ালাই আমার জন্য সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। তখন সে এতে রাজি হয়েছিল। আমাকে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা ধার দিয়েছিল। আজ তার কর্জ পরিশোধের দিন। তাই আমি তার প্রাপ্য তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশে একটা যানবাহনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম। কিন্তু কোথাও কোনো যানবাহন খুঁজে পেলাম না। তাই আমি ওই এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা তোমার কাছে আমানত রাখছি।’ এই বলে সে কাঠের খণ্ডটি সমুদ্রে নিক্ষেপ করল।

তৎক্ষণাৎ তা সমুদ্রে ভেসে চলে গেল। অতঃপর লোকটা ফিরে গিয়ে নিজ শহরে যাওয়ার জন্য যানবাহন খোঁজ করতে লাগল। ওদিকে ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত দিনে ঋণদাতা সমুদ্রতীরে গেল। এই আশায় যে, হয়তো বা ঋণগ্রহীতা তার ঋণ পরিশোধ করার জন্য কোনো নৌযানে এসে পড়ছে। অনেকটা সময় অপেক্ষা করার পর যখন দেখল, লোকটা আসেনি, তখন সে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে করল। ঘটনাক্রমে ঠিক তখনই ঐ কাঠের খণ্ডটি তার নজরে পড়ল। যার ভেতর স্বর্ণমুদ্রা ছিল। সে তা জ্বালানির জন্য বাড়িতে নিয়ে গেল। যখন সে কাঠের খণ্ডটি চিরলো, তাতে ওই স্বর্ণমুদ্রা ও চিঠিটা দেখতে পেল। চিঠি পড়ে সে বুঝতে পারল, এটা তাকেই পাঠানো হয়েছে।

এর অল্প কিছুদিন পর ঋণগ্রহীতা এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে পাওনাদারের কাছে এসে হাজির হলো। সে বলল, ‘আল্লাহর কসম! আমি তোমার প্রাপ্য যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যানবাহন খোঁজ করেছিলাম। কিন্তু এখানে আসার জন্য কোনো যানবাহন পাইনি। তাই সময়মতো আসতে পারিনি।’ ঋণদাতা বলল, ‘ভাই! তুমি কি আমার কাছে কোনো কিছু পাঠিয়েছিলে?’ সে বলল, ‘আমি তো তোমাকে বললাম, এর আগে আমি কোনো যানবাহন পাইনি।’ এবার ঋণদাতা বলল, ‘আল্লাহতায়ালা আমার কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন; যা তুমি আমার জন্য পত্রসহ কাঠের খণ্ডে পাঠিয়েছিলে। কাজেই তুমি তোমার সঙ্গে করে নিয়ে আসা স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে আনন্দচিত্তে ফিরে যাও।’ এ কথা শুনে লোকটা আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করতে করতে চলে গেল। (বোখারি : ২২৯১)।