মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ

সহকারী মুফতি, মারকাজুশ শাইখ আরশাদ আল-মাদানি মানিকনগর, ঢাকা

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশ্ন : নারীরা মাহরাম পুরুষদের সামনে মাথা খোলা রাখতে পারবে? আর কোরআন তেলাওয়াতের সময় মাথা খোলা যাবে?

উত্তর : নারীদের জন্য মাহরাম পুরুষদের সামনে মাথা ঢেকে রাখা উত্তম। তবে খোলা রাখা জায়েজ। আর কারও অসুস্থতার ওজর থাকলে তখন মাথা খেলা অনুত্তমও নয়। ওজর না থাকলে মাথা ঢেকেই তেলাওয়াত করা উত্তম। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ১৭৫৭; আহকামুল কোরআন লিল জাসসাস : ৩/৩১৬; বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২৯১; ফতোয়ায়ে খানিয়া : ৩/৪২৬; শরহুল মুনইয়া : ৪৯৫; রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৬৭)।

প্রশ্ন : অনেকে বলেন, প্রয়োজনের সময় নারীদের জন্য চার আঙ্গুল পরিমাণ চুল কাটা যায়। আমার জানার বিষয় হলো- ক. মেয়েরা কতদিন পরপর চুল কাটতে পারবে এবং তার পরিমাণ কতটুকু? খ. বেশি কাটলে তার কাফফারা কী দিতে হবে এবং তা কী পরিমাণ?

উত্তর : নারীদের চুলের ক্ষেত্রে শরিয়তের মৌলিক নীতিমালা হলো- ১. তারা চুল লম্বা রাখবে। হাদিস থেকে জানা যায়, উম্মাহাতুল মুমিনিন (রা.) চুল লম্বা রাখতেন। ২. এ পরিমাণ খাটো করবে না যে, পুরুষের চুলের মতো হয়ে যায়। হাদিসে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী নারাীর প্রতি অভিসম্পাত করা হয়েছে। ৩. চুল কাটার ক্ষেত্রে বিজাতীয়দের অনুকরণ করবে না। কারণ, হাদিসে বিজাতীয়দের অনুকরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। অতএব, যে নারীর চুল এত লম্বা যে, কিছু অংশ কাটলে পুরুষের চুলের সঙ্গে সাদৃশ্য হবে না, তার জন্য প্রয়োজনে ওই পরিমাণ কাটা জায়েজ হবে। পক্ষান্তরে যার চুল তত লম্বা নয়; বরং অল্প কাটলেই কাঁধ সমান হয়ে যাবে এবং পুরুষের বাবরি চুলের মতো দেখা যাবে, তার জন্য অল্প করেও কাটার অনুমতি নেই। তবে জটিল অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে চুল ছোট করা, এমনকি প্রয়োজনে কামানোরও অনুমতি রয়েছে। অতএব, চার আঙ্গুল পরিমাণ কাটা যাবে- এ কথা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; বরং চুল বেশি বড় থাকলে (যেমন- কোমর সমান চুল থাকলে) চার আঙ্গুলের বেশি পিঠের মাঝামাঝি করে কাটা জায়েজ। তবে সর্বাবস্থায় ফ্যাশনের অনুকরণ করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। উল্লিখিত মূলনীতির আলোকে প্রয়োজনের সময় নারীরা তাদের চুল খাটো করতে পারবে। এর জন্য সময়েরও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আর কেউ নাজায়েজ পরিমাণ কেটে ফেললে বা বিজাতীয় অনুকরণে চুল কাটলে তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। (বোখারি : ২/৮৭৪; জামে তিরমিজি : ১/১০৩; মুসলিম : ১/১৪৮; তাকমিলায়ে ফাতহুল মুলহিম : ১/৪৭২; আল-মুফাসসাল ফি আহকামিল মারআতি ওয়াল বাইতিল মুসলিম : ৩/৪০০; খোলাসাতুল ফাতাওয়া : ৪/৩৭৭; হাশিয়াতুত তাহতাবি আলাদ্দুররিল মুখতার : ৪/২০৩; আল-ফাতাওয়াল মারআহ লিশ শায়খ ইবনে বাজ : ১৬৫; আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৪১৬)।

প্রশ্ন : মেয়েদের ইসলামি গজল গাওয়া এবং তা গাইরে মাহরামদের শোনার বিধান কী?

উত্তর : প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কাছাকাছি বয়সী মেয়েদের পরপুরুষের সামনে গজল গাওয়া যেমন জায়েজ নেই, তেমনি গাইরে মাহরাম কারো জন্য এসব মেয়ের গজল শোনাও জায়েজ নয়।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সঙ্গে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না। ফলে সেই ব্যক্তি কুণ্ডবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে। তারা তোমাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে। বরং তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে।’ (সুরা আহজাব : ৩২)।