ধনী-গরিবের ভারসাম্য
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এফাজ মোবারক

একটা কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে ওঠে সম্পদ বণ্টনের ওপর ভিত্তি করে। কীভাবে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করে অর্থব্যবস্থা। ইসলামি সমাজ মিশ্র অর্থ ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রেও রয়েছে আল্লাহর রহস্য। পৃথিবীর শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই আল্লাহতায়ালা মানুষের চাহিদা অনুপাতে সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেন। আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন। কে কতটুকু আল্লাহর বিধান পালন করে, সম্পদ দিয়ে বা দারিদ্র্যের মাধ্যমে পরীক্ষা করেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, 'আল্লাহ তাঁর সব বান্দাকে রুজিতে প্রাচুর্য দিলে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। কিন্তু তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছে সে পরিমাণই দিয়ে থাকেন। তিনি তাঁর বান্দাদের সম্যক জানেন, দেখেন।' (সুরা শুরা : ২৭)।
বর্তমান পৃথিবীতে আর্থিক বৈষম্যের কারণ হলো, মানবতার অভাব। আর অর্থের প্রাচুর্য মানুষের ভোগ বিলাসিতা, অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ, কৃপণতা সৃষ্টি করে। যা মানুষকে হিংস্র করে তোলে। ধীরে ধীরে পশুতে পরিণত করে। অর্থের এ অহংকারকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আল্লাহতায়ালা জাকাত, ফিতরার বিধান নাজিল করেছেন। এর মাধ্যমেই যাচাই করেন, কে ভালো কে মন্দ।
আটশো কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র আটজনের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ জমে উঠেছে, তা পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষের মোট সম্পদের সমান। এসব ধনীর একেকজন একেকটি রাষ্ট্রের সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করতে পারে; কিন্তু করে না। এটাই সাধারণ জনগণের কষ্টের কারণ। যদি আল্লাহর বিধামতো আমরা অসহায়-গরিবদের মাঝে নিজের কিছু সম্পদ বিলিয়ে দিই, তাহলেই সমাজে শান্তি ও ভারসাম্য ফিরে আসবে। প্রকৃত উন্নতি হবে।
