অর্থনীতির গল্প
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নিয়ামুল ইসলাম

উবাদা ইবনে ওয়ালিদ ইবনে উবাদা ইবনে সামেত (রা.) সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, একদিন আমি ও আমার বাবা ইলমের সন্ধানে বেরুলাম। আনসারদের মহল্লায় যাওয়ার ইচ্ছে করলাম। তাদের মৃত্যুর আগেই তাদের থেকে প্রয়োজনীয় ইলম সংগ্রহ করে নিতে চাইলাম। আমরা রওনা করলাম। সর্বপ্রথম রাসুল (সা.)-এর সাহাবি আবুল ইয়াসার (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো। তার সঙ্গে তার এক গোলামও ছিল। তার হাতে ছিল নথিপত্রের একটা স্তুপ। পরনে নকশী চাদর ও একটা মুয়াফিরি কাপড়। তার গোলামের পরনে এসব কাপড়।
আমার বাবা তাকে বললেন, 'চাচা! আমি যেন আপনার চেহারায় রাগের আলামত লক্ষ্য করছি। আপনি কী কোনো কারণে রেগে আছেন?' তিনি বললেন, কেন রেগে থাকব না বলো! বনি হারাম গোত্রের অমুকের বেটা অমুকের কাছে আমার কিছু মাল পাওনা ছিল। আমি তার পরিবারের কাছে গেলাম। তাদের সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'সে কোথায়? বাড়ি আছে কি?' ভেতর থেকে তারা বলল, না। একটুপর তার একটা ছেলে বেরিয়ে এলো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'তোমার বাবা কোথায়?' ছেলেটি বলল, 'তিনি তো ঘরেই আছেন। আপনার কণ্ঠস্বর শুনে আমার মায়ের খাটের নিচে গিয়ে লুকিয়েছেন।'
ছেলেটার কথা শুনে আমার খুব রাগ হলো। তাই আরেকটু সামনে গিয়ে বললাম, 'কি হলো, এখনও লুকিয়ে থাকবে! বেরিয়ে এসো। আমি তোমার ছেলের থেকে সব জেনে নিয়েছি।' তারপর সে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'কেন তুমি আমার থেকে আত্নগোপন করলে?' সে বলল, 'আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে সঠিক কথাই বলব, আপনার কাছে মিথ্যা বলব না। আল্লাহর কসম! আমি আপনার সঙ্গে মিথ্যা কথা বলতে এবং ওয়াদা করে বরখেলাপ করতে ভয় করি। কারণ, আমি জানি, আপনি তো রাসুল (সা.)-এর একজন সাহাবি। আল্লাহর কসম! আমি অভাবগ্রস্ত।'
এরপর আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'আল্লাহর কসম!?' সে বলল, 'আল্লাহর কসম।' আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, 'আল্লাহর কসম!?' সে বলল, 'আল্লাহর কসম।' আমি আবারও তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'আল্লাহর কসম?' সে বলল, 'হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, আমি অভাগ্রস্ত।' এরপর আমি নথিটা হাতে নিয়ে তা থেকে তার নাম নিজেই মুছে ফেললাম। বললাম, 'পরিশোধ করতে পারলে করবে, অন্যথায় তুমি ঋণমুক্ত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমার এ দু'চোখ দেখেছে, আমার এ দু-কান শুনেছে, আমার এ অন্তর স্মরণ রেখেছে, রাসুল (সা.) বলেছিলেন, যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত ঋণী ব্যক্তিকে সময় দেয় অথবা ঋণমুক্ত করে দেয়, আল্লাহতায়ালা তাকে তাঁর নিজ ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'এরপর আমি বললাম, হে চাচাজান! আপনি যদি গোলামের চাদরটা নিয়ে নেন এবং তাকে আপনার মুআফিরিটা দিয়ে দেন অথবা তার মুআফিরিটা আপনি নিয়ে নেন, আর তাকে আপনার চাদরটা দিয়ে দেন, তাহলে কেমন হয়? এতে আপনার গায়ে এক জোড়া এবং তার গায়েও এক জোড়া থাকবে।' এ কথা শুনে তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। বললেন, 'হে আল্লাহ! একে তুমি বরকত দান করো। হে ভাতিজা! আমার এ দু'চোখে দেখা এবং দু-কানে শোনা, আমার এ অন্তর মনে রেখেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের খাদেমদের তাই খাওয়াও, যা তোমরা নিজেরা খাও; তাদের তাই পরাও, যা তোমরা নিজেরা পরো। আমি দুনিয়াতে তাকে আমার পার্থিব বস্তু দান করা কেয়ামতের দিন আমার নেকিসমূহ তার নিয়ে নেওয়ার চেয়ে অধিকতর সহজ মনে করি।' (মুসলিম : ৭৫১২)।
