বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদদের গল্প
ইসলামে অর্থনীতির গুরুত্ব অপরিসীম। এর ওপর হয়েছে গবেষণা, লেখালেখি। বর্তমানেও তা চলমান। নিরলসভাবে অর্থনীতির ওপর কাজ করে যাচ্ছেন অনেকেই। মুসলিম বিশ্বের এমন কয়েকজন অর্থনীতিবিদকে নিয়ে লিখেছেন— রফিকুল ইসলাম আইনী
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউসুফ কামাল : ১৮৮২ সালে মিশরের আশ শুহাদা শহরে তার জন্ম। প্রাথমিক পড়াশোনা তার পিতার কাছে। ১৯৫১ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি ১৯৫৫ সালে অর্থনীতি বিভাগে তার ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করেন। একই বছরে তিনি কলেজ কর্তৃক মনোনীত অর্থনীতিতে সর্বাধিক নম্বর প্রাপ্তি ও অর্থনীতিতে বুদ্ধিমত্তার জন্য দুটি পুরস্কার পান। তিনি বিদেশে একটি মিশনের জন্য কলেজ কর্তৃক মনোনীত হন। কিন্তু তার ডিগ্রি শেষ হওয়ার পরপরই তথাকথিত ফাইনান্স রেগুলেশন মামলায় ১৯৫৫ সালের ১৫ আগস্ট গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া কলেজে ইসলামি অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে ছয় বছর কাজ করেন। ১৯৯০ সালে পাকিস্তানের পেশোয়ারে ইসলামি একাডেমিতে কাজ করেন। ১৯৯৭ সালে শামস বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ সালে তিনি বেশ কয়েকটি স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরেটের সেমিনারে অংশ নেন। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থটের একজন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবেও নিযুক্ত হন। অর্থনীতির ওপর লেখা তার বই ও গবেষণা-পর্যালোচনাই তার অসামান্য পাণ্ডিত্যের প্রমাণ বহন করে। অর্থনীতির ওপর তার চৌদ্দটি গ্রন্থ রয়েছে। তন্মধ্যে আদওয়া আলা ফিকরিল ইকতিসাদিল ইসলামি, উসুলুল ইকতিসাদিল ইসলামি, ফিকহু ইকতিসাদিল ইসলামি ও আল ইসলাম ওয়াল মাজাহিবুল ইকতিসাদিয়্যা উল্লেখযোগ্য। ১৯৬৫ সালে তার ইন্তেকাল হয়।
মোস্তফা আহমদ আজ জারকা : ১৯০৪ সালে সিরিয়ার হালব শহরে তার জন্ম। তিনি সিরিয়ান আধুনিক যুগে আইনশাস্ত্র ও অর্থনীতির অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। মুহাদ্দিস বদরুদ্দিন আল হাসানি, ইতিহাসবিদ মুহাম্মদ রাগিব আত তাবাখ ও মুহাম্মদ আল হানাইফির কাছে শৈশবকাল কাটান। অল্প বয়সেই কোরআন শরিফ মুখস্থ করেন। সিরিয়ান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনিই বিজ্ঞান ও অর্থ বিভাগে প্রথম স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯২৯ সালে দামেস্কে যান। গণিত ও দর্শন বিভাগে দ্বিতীয় ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর সিরিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৩৩ সালে তিনি আইন ও সাহিত্য বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর ১৯৪৭ সালে তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ইসলামি শরিয়ায় ডিপ্লোমা অর্জন করেন। তিনি শুরুতেই আইনশাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিযুক্ত হন। সিরিয়া ও জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য অঞ্চলে বেশ কয়েকটি শরিয়া কলেজে অধ্যয়ন করেন। পাশাপাশি তিনি অর্থনীতি নিয়েও কাজ করেন। যেমন ব্যাংকিং সমস্যা, আধুনিক বিক্রয় ইত্যাদি। তিনি ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে আলেপ্পো শহরের প্রতিনিধি হিসেবে সিরিয়ার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৬ ও ১৯৬২ সালে তাকে বিচার বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ, আবদুর রহমান রাফাত পাশা ও মুহাম্মদ ফাওজি ফয়জুল্লাহ তার উল্লেখযোগ্য ছাত্র। তার জ্ঞান সম্পর্কে শায়খ ইউসুফ আল কারজাবি বলেন, 'সিরিয়ার মহান চারজন মহাজ্ঞানীর একজন মোস্তফা আহমদ আজ জারকা।' তিনি আইনশাস্ত্র অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪০৪ হিজরিতে ইসলামিক স্টাডিজের জন্য বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার পান। আইনশাস্ত্রের মাধ্যমে অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করেন। ইসলামি আইনশাস্ত্রের ওপর তার একাধিক গ্রন্থ রয়েছে। আল মাদখালুল ফিকহিয়্যুল আম, আল উকুদুল মুসাম্মাত ফিল ফিকহিল ইসলামি, শরহুল কাওয়াঈদিল ফিকহিয়্যাহ ও আল ফিকহুল ইসলামি ওয়া মাদারিসুহ তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৯ সালের ৩ জুলাই তার ইন্তেকাল হয়।
তাকি উদ্দিন আন নাবহানি : ১৯১৪ সালে ফিলিস্তিনের ইজ্জিম নামক গ্রামে তার জন্ম। জর্ডানের অধিবাসী আন নাবহানি আরবদের বনু নাবান আত তাই গোত্রের। তিনি মায়ের কাছে প্রাথমিক শিক্ষার্জনের পর ১৯২৮ সালে মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৩২ সালে সেখানকার শরিয়া বিভাগ থেকে আন্তর্জাতিক সনদ লাভ করেন। এরপর কায়রোর দারুল উলুম থেকে আরবি ভাষা-সাহিত্যে ও বিচার বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। আন নাবহানি ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শরিয়া শিক্ষার ক্ষেত্রে কাজ করেন। একই সঙ্গে হাইফা কেন্দ্রীয় আদালতের পরামর্শক ও ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত রামলে আদালতের বিচারক ছিলেন। এরপর ১৯৫০ সাল পর্যন্ত শরিয়া আদালতের আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। আন নিজামুল ইকতিসাদিয়্যু ফিল ইসলাম অর্থনীতির ওপর লেখা তার অসামান্য রচনা। ১৯৭৭ সালের ২০ ডিসেম্বরে তার ইন্তেকাল হয়।
আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল মুনি : ১৯৩০ সালের ৬ ডিসেম্বর সৌদি আরবের আল ওয়াশিম জেলার রাজধানী শাকরাতে তার জন্ম। ১৩৬৫ হিজরিতে শাকরা বিদ্যালয়ে তার প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি। এরপর তিনি আল আহসা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাণিজ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তারপর ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘসময় পড়াশোনা চালিয়ে যান। ১৩৭৭ হিজরিতে আরবের ফতোয়া ও বিচার কাজে নিযুক্ত হন। ১৩৯১ সালে রাজকীয় সিনিয়র স্কলারদের কাউন্সিল কমিশনের সদস্য পদে নিযুক্ত হন। ১৩৯৫ হিজরিতে তিনি জেনারেল নিযুক্ত হন। প্রশাসন ও অর্থনীতিতে তিনি বিজ্ঞ ছিলেন। ১৩৯৭ হিজরিতে মক্কায় বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। অল্প কয়েক বছরের মধ্যে ১৪১৭ হিজরিতে তিনি প্রধান পদে নিযুক্ত হয়ে ১৪২১ হিজরিতে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। ১৪২৯ হিজরিতে তাকে রয়্যাল কোর্টে আইনি উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। তিনি সৌদি রাজকীয় আদালতের উপদেষ্টা ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির ওপর বিভিন্ন কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। বুহুসুন ফিল ইকতিসাদিল ইসলামি ও আত তামিন ওয়া হুকমুহু ফিশ শারিয়াতিল ইসলামিয়্যা তার অসামান্য রচনা।
আলি বিন আহমদ আলি আস সালুস : ১৯৩৪ সালে মিশরে তার জন্ম। তিনি কাতার প্রবাসী। দারুল উলুম কায়রো থেকে ১৯৬৯ সালে শরিয়ায় মাস্টার্স ও ১৯৭৫ সালে পিএইচডি করেন। ১৯৫৭ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মিশরে শিক্ষকতা করেন। ১৪০১ হিজরি থেকে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব শরিয়ার অধ্যাপনায় যুক্ত হন। তিনি কুয়েত আল মুস্তান্সিরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও চার বছর অধ্যাপনায় যুক্ত ছিলেন। এরপর বাগদাদে ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ও কুয়েত শরিয়ায় ১৯৭৬ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত শিক্ষক থেকে সহকারী অধ্যাপকে উন্নীত হয়ে ফিকহ একাডেমিতে আইনশাস্ত্র ও অর্থনীতিতে বিশেষজ্ঞতা লাভ করেন। হুকমু ওয়াদায়িল ব্যাংক ওয়া শাহাদাতুল ইশতেহার ওয়াল ফিকহুল ইসলামি, হুকমু আমালিল ব্যাংক ফিল ফিকহিল ইসলামি, তাতবিকাতুন শারইয়্যাতুন লি ইকামাতি সুকিন ইসলামিয়্যাতিন, মুয়ামালাতুল ব্যাংকিল হাদিসা ফি দাওইল ইসলামি ও আল ইকতিসাদুল ইসলামি ওয়া উরুদুল ফিকহ ফি তাসিলিহ তার উল্লেখযোগ্য রচনা।
ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুহসিন আত তুর্কি : ১৯৪০ সালের ৪ আগস্টে সৌদি আরবে তার জন্ম। সৌদি রাজকীয় আদালতে মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। হুরমা শহরে বেড়ে ওঠেন। পরিবারে তার প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি। এরপর মাজমা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক ইনস্টিটিউটে মাধ্যমিক স্তরে ভর্তি হন। রিয়াদের উচ্চ বিচার বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শরিয়া ও আরবি ভাষায় ডিগ্রি অর্জন করেন।
এরপর মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরিয়া ও আইন বিভাগ থেকে ডক্টরেট অর্জন করেন। রিয়াদের শরিয়া কলেজের শিক্ষকতায় নিযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে কর্মজীবনে তার পদার্পন। সেখানে আরবি ভাষা বিভাগে ২১ রজব ১৩৮৮ হিজরি থেকে ২২ জিলহজ ১৩৯৪ হিজরি পর্যন্ত ও ১৩৯৪ হিজরি থেকে দু'বছর ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় যুক্ত থাকেন। এরপর ১৩৯৬ থেকে ১৪১৪ হিজরি পর্যন্ত ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনে (বিশেষত ইসলাম ও আরবি এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে) অবদান রাখায় বাদশাহ ফাহাদ কমপ্লেক্স তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অর্থনীতির ওপর আসবাবু ইখতিলাফিল ফুকাহা তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি : ১৯৪৩ সালের ৩ অক্টোবরে ভারতের দেওবন্দে তার জন্ম। পারিবারিকভাবে তার প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি। এরপর ১৩৭২ হিজরির ৫ শাওয়ালে দারুল উলুম করাচিতে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে সর্বকালের সর্বোচ্চ ফলাফল লাভ করে দরসে নেজামির সর্বোচ্চ শ্রেণি দাওরায়ে হাদিস সস্পন্ন করেন। এরপর পিতার তত্ত্বাবধানে ফিকহশাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে তিনি দারুল উলুম করাচি থেকে ফিকহশাস্ত্রে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও রাজনীতিতে স্নাতক এবং ১৯৬৭ সালে আইনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭০ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আরবি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এ ছাড়া ইংরেজি সাহিত্যেও তিনি পারদর্শিতা অর্জন করেন। ১৯৬০ সাল থেকে অদ্যাবধি দারুল উলুম করাচিতে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি মুসলিম বিশ্বে নানাবিধ ধর্মীয় কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে ইসলামি ব্যাংকিং ও অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য। ১৯৮০ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরিয়া আদালতের এবং ১৯৮২ থেকে ২০০২ সালের মে মাস পর্যন্ত পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরিয়া আপিল বেঞ্চের বিচারক ছিলেন। 'মিজান ব্যাংক' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তানে সর্বপ্রথম তিনিই ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেন। তিনি আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি (ওআইসির একটি শাখা সংস্থা)-এর একজন স্থায়ী সদস্য। নয় বছর তিনি আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমির ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন। ২০০৪ সালের মার্চ মাসে দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামি অর্থনীতি সংস্থার বার্ষিক অনুষ্ঠানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী ইসলামি অর্থনীতিতে তার অবদান ও অর্জনের জন্য তাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি দারুল উলুম করাচিতে বোখারি শরিফ, ফিকহ এবং ইসলামি অর্থনীতির দরস দেন। ইসলামি ব্যাংকিং ও অর্থনীতি সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সাময়িকীতে বহু প্রবন্ধ লিখেছেন। তিনি আরবি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় ষাটের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা। An introduction to Islamic finance, The Historic Judgment on Interest Delivered in the Supreme Court of Pakistan, ইসলাম ওয়া জাদিদ মাঈশাত ওয়া তিজারত, গাইরে সুদি ব্যাঙ্কারি ফিকহি মাসাইল কি তাহকিক আওর ইশকালাত কা জায়েজা অর্থনীতির ওপর লেখা তার অসামান্য রচনা।
