প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
বিপদাপদ, চাপ কিংবা না পাওয়ার বেদনা যত বেশিই হোক, কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া ঈমানদারের কাজ নয়; বরং সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রাখাই সুস্থ থাকার উপায় এবং বুদ্ধিমানের কাজ। বিশ্বাস, আশা ও ভালোবাসা মোমিনের জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বিশ্বাসী, আশাবাদী, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ মানুষ ব্যর্থ ও হতাশাগ্রস্ত হয় না। হতাশা আসে ব্যর্থতার গ্লানি থেকে। সাধারণত মানুষ প্রাপ্তিতে তৃপ্ত ও অপ্রাপ্তিতে অতৃপ্ত হয়। তাৎক্ষণিক লাভণ্ডক্ষতিকে মানুষ সফলতা ও ব্যর্থতার মানদ- মনে করে। সেভাবেই প্রতিক্রিয়া জানায়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি যখন মানুষকে নেয়ামত দান করি, তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও পাশ কাটিয়ে যায়। আর যদি কোনো অনিষ্ট তাকে স্পর্শ করে, তখন সে হতাশ হয়ে পড়ে।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৮৩)।
মোমিন সবসময় আশাবাদী : হাসি-কান্না, দুঃখ-বেদনা, আশা-হতাশা সব মিলিয়েই জীবন। জীবনে দুঃখ না থাকলে সুখ, হতাশা না থাকলে প্রত্যাশার কোনো মূল্য থাকত না। কখনও কখনও নানা কারণে মানুষের জীবনে হতাশা নেমে আসতে পারে। আবার সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও হতাশার কালো ধোঁয়া আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে। তবে সত্যিকার মোমিন যারা, তারা কখনও হতাশ হতে পারে না। মানুষ হিসেবে সাময়িকভাবে কিছুটা আশাহত হতে পারে; কিন্তু স্থায়ী হতাশা তাদের মধ্যে থাকতে পারে না। মোমিনরা সবসময় হবে আশাবাদী। মানুষের বেঁচে থাকার মূল প্রেরণাই হলো এই আশা। নানা আশায় বুক বেঁধেই মানুষ বেঁচে থাকে। ব্যক্তি-সমাজ ও রাষ্ট্রকে সাজানোর প্রেরণা খুঁজে পায়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা ভগ্নোৎসাহ হয়ো না, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ো না। তোমরাই হবে বিজয়ী, যদি সত্যিকারের ঈমানদার হও।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৩৯)।
ধৈর্য ধারণে বিশাল সওয়াব : বিপদাপদের মাধ্যমে আল্লাহ মোমিনদের সংশোধন হওয়ার সুযোগ করে দেন। এসব মুহূর্তে ভেঙে পড়া মোমিনের কাজ নয়। বিপদে ধৈর্য ধারণ এবং আল্লাহর সাহায্য কামনা করাই হলো প্রকৃত মোমিনের পরিচয়। বিপদের মুহূর্তে ধৈর্য ধারণে রয়েছে বিশাল সওয়াব। বিপদাপদে যারা ধৈর্য ধারণ করেন, তাদের মর্যাদা আল্লাহ বাড়িয়ে দেন। অনেক সময় বান্দার কৃতকর্মের জন্য বিপদ নেমে আসে। বিপদ যিনি দেন, সেই বিপদ সরিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও তাঁর। এ জন্য বিপদের মুহূর্তে তাঁকেই আশ্রয় হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তাঁর সাহায্য ছাড়া দুনিয়ার কোনো কিছুই মানুষকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। মোমিনদের উচিত, সবসময় আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা। কেননা, ইসলাম একদিকে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে উৎসাহিত করে, অন্যদিকে নিরাশা ও হতাশাকে করে নিরুৎসাহিত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার : ৫৩)।
দুঃখের পর সুখ আছে : রাত শেষে যেমন ভোর হয়, তেমনি দুঃখের পর সুখ আছে। কাজেই কোনো দুঃখে মুষড়ে পড়া মোমিনের সাজে না। মানুষ যত বড় পাপীই হোক, আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন। এটা আল্লাহর ওয়াদা। তিনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব।’ (সুরা মোমিন : ৬০)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা হতাশ হয়ো না এবং দুঃখ কোরো না। যদি তোমরা মোমিন হও, তবে তোমরা জয়ী হবেই।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৩৯)।